পাখির কলকাকলিতে মুখর পাইকগাছার হাড়িয়া আবাদ, প্রকৃতিতে নান্দনিক রূপ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

সারাদেশ

সবুজ গাছপালা, শান্ত পরিবেশ আর চারদিকে কেবল পাখির কলকাকলি—এ যেন কোনো কৃত্রিম অভয়ারণ্য নয়, বরং প্রকৃতির নিজ হাতে গড়া এক

2026-06-16T18:28:07+00:00
2026-06-16T18:28:07+00:00
  সোমবার, ২২ জুন ২০২৬,
৮ আষাঢ় ১৪৩৩
 
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
সারাদেশ
পাখির কলকাকলিতে মুখর পাইকগাছার হাড়িয়া আবাদ, প্রকৃতিতে নান্দনিক রূপ
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৬:২৮ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
সবুজ গাছপালা, শান্ত পরিবেশ আর চারদিকে কেবল পাখির কলকাকলি—এ যেন কোনো কৃত্রিম অভয়ারণ্য নয়, বরং প্রকৃতির নিজ হাতে গড়া এক স্বর্গরাজ্য। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার হাড়িয়া আবাদ গ্রামে এখন এমনই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পাখির আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

গ্রামের নারান রায়ের বাড়ির আঙিনায় থাকা সুন্দরবনের বাইন গাছে পানকৌড়ি, বক, হাঁসসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আশ্রয় নিয়েছে। পাশাপাশি রশিদ মিয়ার বাড়ির তেঁতুল, নারকেলসহ বিভিন্ন গাছেও পাখিদের নিরাপদ আবাস দেখা যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাখিদের অবাধ বিচরণে পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে এক প্রাকৃতিক অভয়ারণ্যে।

হাড়িয়া আবাদ গ্রামে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় পাখিদের কিচিরমিচির আর ডানার ঝাপটায় এক জীবন্ত পরিবেশ। স্থানীয় বিভিন্ন গাছে বাসা বেঁধেছে নানা প্রজাতির পাখি। এখানে প্রকৃতি যেন পাখির কলতানে প্রতিনিয়ত নতুন রূপে প্রাণ ফিরে পায়।

এখানে দেখা যায়—সাদা বক ও কানি বক, পানকৌড়ি, ডাহুক, শালিক, চড়ুই, বাবুই, মাছরাঙা, ঘুঘুসহ অসংখ্য দেশীয় পাখি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিস্তীর্ণ ঘের ও জলাশয় পাখিদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের জোগান দেয়। পাশাপাশি মানুষের পাখিপ্রীতিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কেউ পাখি শিকার করে না, বরং সবাই তাদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে সচেতন।

স্থানীয়দের ভাষায়, আমাদের ঘুম ভাঙে পাখির ডাকে। বিকেলে সব পাখি যখন একসঙ্গে বাসায় ফিরে আসে, সেই দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর।

বর্তমানে গ্রীষ্মকাল হওয়ায় অন্যান্য এলাকায় পাখির সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও হাড়িয়া আবাদে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পাখির উপস্থিতি রয়েছে। ফলে সারাদিনই গ্রামটি পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শীত মৌসুমে এ এলাকায় পাখির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়। তখন সরালি হাঁস, চখাচখি, বালিহাঁস, গার্গেনি হাঁস, সুচিপুচ্ছ হাঁস, গাঙচিল, জলপিপি, কাদাখোঁচাসহ নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি অতিথি পাখির আগমন ঘটে। পুরো এলাকা তখন রূপ নেয় এক বিশাল পাখির অভয়ারণ্যে।

পাখিদের এই মনোরম সমাবেশ ও প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে বিকেলে হাড়িয়া আবাদে ভিড় বেশি দেখা যায়।

এ বিষয়ে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বনবিবি’র সভাপতি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রকাশ ঘোষ বিধান বলেন, পাখি সংরক্ষণে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকায় গাছে গাছে পাখির বাসা স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মানুষের পাশাপাশি পাখিদেরও নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করা জরুরি। পাখি ও প্রকৃতি রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: