নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে অনিক (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় স্থানীয় মিষ্টার ও জবা মেম্বার অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত অনিক দড়িগাঁও পূর্বপাড়া এলাকার ওসমান মেম্বারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব বিরোধের জের ও গেল বছর ডিসেম্বর একটি হত্যা মামলার আসামী হলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বাইরে ছিলেন জবা মেম্বার তার অনুসারি আলাল মুন্সিসহ অন্যান্যরা।
মঙ্গলবার ভোরে স্পিডবোটে নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের সহযোগিতায় মিষ্টারের অনুসারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় জবা মেম্বারের অনুসারীরা। এর জেরে মিষ্টারের সমর্থকরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শুরু হওয়া সংঘর্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে হরিপুর ও দড়িগাঁও এলাকায়। ভোর থেকে শুরু হয়ে কয়েক দফায় চলা সংঘর্ষ সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন অনিক।
পরে স্হানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন ।
একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন বকুল মিয়ার ছেলে রাজু (২৮) এবং অহিদ মিয়ার ছেলে মোস্তফা (৬০)। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
খবর পেয়ে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয়দের দাবি, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর মিষ্টার ও জবা মেম্বারের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মামুন মিয়া নামে এক কুয়েত প্রবাসী নিহত হন। নিহত মামুন মিষ্টারের অনুসারী ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই ঘটনার জের ধরেই মঙ্গলবার দুই পক্ষের মধ্যে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান চলছে। অভিযুক্তরা পলাতক।
রায়পুরা থানা পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পূর্ববিরোধের জের ধরে দুই গ্রুপে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তবে আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।