মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী-নির্ভর অর্থনীতির জন্য পরিচিত। কৃষিভিত্তিক জনপদ হিসেবে পরিচিত এ এলাকায় বর্তমানে বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তবে এর পাশাপাশি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা, যা অনেক পরিবারকে আর্থিক ও মানসিক সংকটে ফেলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগের অভাবে অনেক তরুণ দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতির আশায় দালালচক্রের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, লিবিয়া হয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পৌঁছানোর জন্য অনেক ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকারও বেশি অর্থ লেনদেন করা হচ্ছে।
যদিও কেউ কেউ গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হন, তবে অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এছাড়া ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকাডুবি, নিখোঁজ হওয়া এবং লিবিয়ায় মানব পাচারকারী চক্রের নির্যাতনের মতো ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জানান, বিদেশে যাওয়ার পর থেকে তার স্বজনের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। পরে দালাল পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার কথা জানানো হলেও এরপর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা এখনও প্রিয়জনের কোনো খোঁজ পাননি।
শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল রানা বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও এলাকায় পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় অনেক তরুণ অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছেন।
মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জাহাঙ্গীর আলম জানান, মানব পাচারকারী দালালদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আইনি অভিযোগ করতে অনীহা দেখায়, ফলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে জটিলতা তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, অনেক পরিবার সন্তানদের উদ্ধারের আশায় সহায়-সম্বল বিক্রি করে অতিরিক্ত অর্থ পাঠায়। এরপরও অনেক সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পরিবারগুলো দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, তরুণদের মধ্যে বৈধ কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানো না গেলে অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি কমানো কঠিন হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি ও কর্মমুখী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।