সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির। তার মতে, শক্তিশালী আইনি নথিপত্র, সুনির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপন এবং কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নিশ্চিত করা গেলে বেনজীরকে দেশে এনে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব।
সোমবার (১৫ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া: একটি সারসংক্ষেপ’ শীর্ষক এক পোস্টে তিনি এ মতামত প্রকাশ করেন।
শিশির মনির বলেন, বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে বর্তমানে কোনো কার্যকর দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি নেই। তবে ২০১৪ সালে স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন সিকিউরিটি কো-অপারেশন’ এবং ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন ট্রান্সফার অব সেন্টেন্সড প্রিজনার্স’ দুই দেশের মধ্যে বিচারিক সহযোগিতার একটি ভিত্তি তৈরি করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও বাংলাদেশের ‘এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট, ১৯৭৪’-এর ধারা ৪ অনুযায়ী সরকার চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে আইনি কাঠামোর আওতায় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও জানান, ইউএইর আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তাব প্রস্তুত করবে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক চ্যানেলে তা প্রেরণ করবে এবং বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) পুরো প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে।
প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, এফআইআর, চার্জশিট বা তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ, অভিযুক্তের পরিচয় ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য, অভিযোগের বিবরণ, প্রাসঙ্গিক আইন এবং অভিযোগের সমর্থনে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শিশির মনিরের মতে, প্রত্যর্পণ আবেদন পাওয়ার পর ইউএইর আদালত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করবে। এর মধ্যে রয়েছে অভিযোগকৃত অপরাধ ইউএইর আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় কি না (ডুয়াল ক্রিমিনালিটি), মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না এবং বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর পর অভিযুক্ত ন্যায়সংগত ও নিরপেক্ষ বিচার পাবেন কি না।
একটি পূর্ববর্তী সফল উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ খান হত্যা মামলার আসামি মোহসিন মিয়া ও আরিফ সরকারকে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। যথাযথ নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সহযোগিতা থাকলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সফল হওয়া সম্ভব।
সবশেষে শিশির মনির বলেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার সফলতা নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপর—শক্তিশালী ও নির্ভুল আইনি নথিপত্র, অভিযুক্তের পরিচয় ও মামলার তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন এবং ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা। এই তিনটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সফল হলে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।