উচ্চ আদালত থেকে তিনটি মামলায় জামিন পাওয়ার পরও কারামুক্ত হতে পারলেন না সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতি। সাতক্ষীরা সদর থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার (শোন অ্যারেস্ট) দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (১৪ জুন) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মণ্ডলের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর গ্রামের বাসিন্দা অহেদ আলী হত্যা মামলায় লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে শুনানি শেষে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সেঁজুতির আইনজীবী অ্যাডভোকেট আল মাহামুদ দাবি করেন, অন্যান্য মামলায় দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মামলার প্রাথমিক এজাহারেও তার নাম ছিল না।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৬ মার্চ রাতে ধুলিহর এলাকায় পারুল বেগমের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা পারুল বেগমের স্বামী অহেদ আলীকে অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং পরে তাকে হত্যা করে। পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সম্প্রতি পারুল বেগম আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করলে আদালত সেটিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে সাতক্ষীরা সদর থানাকে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। মামলায় লায়লা পারভীন সেঁজুতিসহ ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।