জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট একদিকে যেমন সম্ভাবনার আলোকবর্তিকা, অন্যদিকে বাস্তবায়নের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে গুলশানের নিজ বাসভবনে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান বাজেটকে ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট হিসেবে বিবেচনা করা যায়। দেশের চলমান কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলার লক্ষ্যেই সরকারকে এই বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে। ফলে উন্নয়ন ও জনকল্যাণে বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও রাজস্ব ভিত্তি এখনও দুর্বল।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আরও বলেন, বাজেটটি একদিকে বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিমুখী উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। তবে এর প্রধান দুর্বলতা হলো রাজস্ব আহরণের অনিশ্চয়তা, বড় ঘাটতি, ঋণনির্ভর অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনার অস্পষ্টতা।
তিনি বলেন, এই বাজেট জনগণকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ দিয়েছে, তবে সেই স্বপ্ন কতটা বাস্তবে রূপ নেবে তা নির্ভর করবে সরকারের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতার ওপর।
তিনি সতর্ক করে বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বৈদেশিক ঋণের চাপের মধ্যে বাজেট বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তার মতে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়লেও প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার খাতে ভর্তুকির চাপ এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ ছাড় নিশ্চিত করাও কঠিন হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজস্ব আদায়ের বর্তমান সক্ষমতা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় প্রস্তাবিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী। লক্ষ্য অনুযায়ী আয় না হলে বাজেট বাস্তবায়নে চাপ আরও বাড়বে এবং সামগ্রিক বাস্তবায়নযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আগে বাজেট ঘোষণার পর বিরোধী দলগুলোর নিয়মিত প্রতিক্রিয়া ও আন্দোলন রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা থাকলেও সাম্প্রতিক আচরণে তা পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।
তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে যুক্তিনির্ভর ও গঠনমূলক আলোচনা জরুরি, অন্যথায় কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্ভব নয়।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের জন্য শুধু অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, সুশাসন, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি সরকারের কিছু উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মিতব্যয়ী নীতি এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর সীমিত করার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।