জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রহিমি জাহানাবাদি।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াতে ইসলামীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিনিময়, স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়ন এবং মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সাফল্য এবং শফিকুর রহমানের বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে অভিনন্দন জানান ইরানের রাষ্ট্রদূত।
এ সময় শফিকুর রহমান সাম্প্রতিক সংঘাতে নিহত ইরানি নাগরিকদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। তিনি যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা ও শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এ প্রক্রিয়ায় ইরানের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, শান্তি চুক্তি কার্যকর থাকবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইরান গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠন, ঢাকা-তেহরান সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু এবং মেডিকেল ট্যুরিজম সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন। এ সময় শফিকুর রহমান বাংলাদেশে ইরান সরকারের সহযোগিতায় একটি বিশ্বমানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার অনুরোধ জানান।
জবাবে ইরানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও ইরানের বিদ্যমান সুসম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইরান সরকারের সদিচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে ইরান দূতাবাসের ফার্স্ট কাউন্সেলর এসরাফিল আমিরি গোরজাদ্দিনি, কালচারাল কাউন্সেলর মাহদি মোলারস, মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স অফিসার মাহফুজুল হক এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান উপস্থিত ছিলেন।