সাম্যভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র-সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।
এ উপলক্ষে রোববার (১৪ জুন) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, জনগণের স্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও কোনো আপস করবে না বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা করা হলেও জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়িয়ে সবার আগে প্রতিবাদ করবে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।
সাম্যভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।
এ উপলক্ষে রোববার (১৪ জুন) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, জনগণের স্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও কোনো আপস করবে না দলটি। সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা করা হলেও জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তারা রাজপথে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে।
সমাবেশে সাইফুল হক আরও বলেন, জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সবসময় উচ্চকণ্ঠ ভূমিকা রেখেছে। গত ২২ বছরে দলটি প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক ও বামধারার একটি লড়াকু রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জনগণের মধ্যে অবস্থান তৈরি করেছে।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও সরকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করেছে। তবে শ্রমজীবী মানুষ ও শ্রমিকদের জন্য বাজেটে প্রত্যাশিত উদ্যোগ দেখা যায়নি। বিশেষ করে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়টি অনুপস্থিত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির উদ্যোগ থাকলেও যেসব শ্রমিক মাসের শেষ ১৫ দিন কীভাবে চলবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকেন, তাদের জন্য কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবিক জীবনের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
কৃষি খাত প্রসঙ্গে সাইফুল হক বলেন, বীজ ও কীটনাশকে শুল্ক কমানোর উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে কি না, সে বিষয়ে বাজেটে আশাব্যঞ্জক কিছু নেই।
বৈদেশিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওপর এক ধরনের চাপিয়ে দেওয়া অসম বাণিজ্য চুক্তি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, জাপান ও রাশিয়ার সঙ্গে সমতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় তার দল।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে এবং অনলাইন বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অসম চুক্তি সংসদে আলোচনার মাধ্যমে পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
রাজনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার এখনো কার্যকর পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পর্যাপ্ত যোগাযোগও নেই। দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সবার অংশগ্রহণ জরুরি।
ভারতের নতুন হাইকমিশনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু কথায় নয়, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে পুশইন বন্ধের ঘোষণা দিলেই সত্যিকারের বন্ধুত্বের প্রতিফলন হবে। সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সব সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী বলেন, বৈষম্য ও অনিরাপত্তার কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীরা এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ধর্ষণ, হত্যা ও সহিংসতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অরবিন্দু বেপারী বিন্দু বলেন, বর্তমান সরকারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, শিল্পকারখানা টিকিয়ে রাখা এবং বেকারত্ব নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান। সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশ শেষে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগ্রামে শহীদদের স্মরণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে দলটি। পরে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন নেতাকর্মীরা।