দিনাজপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুর ছবি প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করে আপত্তিকর ছবি তৈরি, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামিকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে র্যাব-১৩-এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভুক্তভোগী শিশুটি তার বাবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে মাঝে মাঝে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশ নিত। এ সুযোগে প্রতারক চক্রটি ভুয়া ফেসবুক আইডির মাধ্যমে যোগাযোগ করে শিশুর কয়েকটি ছবি সংগ্রহ করে। পরে সেগুলো বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃত ও আপত্তিকর ছবিতে রূপান্তর করা হয়।
এরপর আসামিরা ভুক্তভোগীর বাবার মেসেঞ্জারে ওই সম্পাদিত ছবি পাঠিয়ে টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১৭ মে ২০২৬ তারিখে ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে শিশুর বিকৃত ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা মোছা. রুবিনা আক্তার গত ২৪ মে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর থেকেই র্যাব অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১৩, সিপিসি-১, দিনাজপুর ক্যাম্প এবং র্যাব-১, উত্তরা’র একটি যৌথ আভিযানিক দল শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার তুরাগ থানার উত্তরার বায়তুল মা’মুর জামে মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মো. রনি (৩০)-কে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার রনি দিনাজপুর জেলার কোতোয়ালি উপজেলার চুনিয়াপাড়া এলাকার মকছেদ আলীর ছেলে। তিনি বর্তমানে দিনাজপুর শহরের বড়বন্দর নতুনপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সাইবার অপরাধ, পর্নোগ্রাফি, ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।