‘উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নে বিজ্ঞান মেলা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ মেলার আয়োজন করে ভিতরবন্দ জ্ঞান সিন্ধু যুব বিজ্ঞান ক্লাব। বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ মেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
মেলার অংশ হিসেবে পলিথিনের ব্যবহার হ্রাস ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ।
ভিতরবন্দ জ্ঞান সিন্ধু যুব বিজ্ঞান ক্লাবের উপদেষ্টা ও কুড়িগ্রাম জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফি, ভিতরবন্দ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ফারুক আহমেদ এবং উপজেলা আইসিটি অফিসার এটিএম মাহমুদ (সুমন)। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মেলার প্রধান আয়োজক ও পরিচালক ছিলেন ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম খন্দকার বাচ্চু।
এবারের বিজ্ঞান মেলায় কুড়িগ্রাম টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ মোট ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। প্রদর্শিত প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণার ভিত্তিতে সেরা তিনটি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়।
এছাড়া ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তিনটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে তিনজন করে শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের পুরস্কৃত করা হয়।
মেলায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুইজ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। এতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী তিনজন প্রতিযোগীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চারজন ব্যক্তিকে স্মারক সম্মাননা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানকে সৌজন্য উপহার হিসেবে ফলজ বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।
মেলার প্রধান আয়োজক ও পরিচালক আমিনুল ইসলাম খন্দকার বাচ্চু বলেন, “প্রতিবছর ভিতরবন্দ ইউনিয়নে বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে নতুন জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পায় এবং উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা বিকাশে উৎসাহিত হয়।”