উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণের প্রভাবে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জেলার চৌহালী উপজেলায় নতুন করে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের হার্ড পয়েন্ট এলাকায় যমুনার পানি ২৯ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর উপজেলার মেঘাইঘাট পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলগুলোতে প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, গত কয়েকদিন ধরে যমুনার পানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। শহর রক্ষা বাঁধের হার্ড পয়েন্টে ৮ জুন ৪ সেন্টিমিটার, ৯ জুন ১৯ সেন্টিমিটার, ১০ জুন ৩৮ সেন্টিমিটার এবং ১১ জুন ২৯ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে মেঘাইঘাট পয়েন্টে যথাক্রমে ৬, ২৬, ৩৪ ও ২৭ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। তবে বর্তমানে পানি এখনো বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩২২ সেন্টিমিটার এবং মেঘাইঘাট পয়েন্টে ৩৮১ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
পানি বৃদ্ধির প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চৌহালী উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকা। চর সলিমাবাদ ও আশপাশের এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই নতুন নতুন জমি ও স্থাপনা নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে।
ভাঙনের শিকার সাবিয়া বেগম বলেন, কয়েক বছর আগে যমুনা তার বসতভিটা কেড়ে নিয়েছে। বর্তমানে তিনি অন্যের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। সম্প্রতি আবারও ভাঙন তীব্র হওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে তার উদ্বেগ আরও বেড়েছে। স্বামী ও সন্তানদের হারানোর পর এখন তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
একই গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল মোল্লা বলেন, অটোরিকশা চালিয়ে কোনোভাবে সংসার চালান তিনি। কিন্তু নদীভাঙনে তার বসতভিটার অধিকাংশ অংশ ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। সম্প্রতি শেষ আশ্রয়টুকুও নদীতে হারিয়েছেন তিনি। নতুন করে ঘর তৈরির মতো জমি বা আর্থিক সক্ষমতা তার নেই।
বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাবুল সরকার জানান, যমুনার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। চর বিনানুইর এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার ভূমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। চর সলিমাবাদ এলাকার কয়েকটি বসতবাড়িও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জিও ব্যাগে বালুভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে ভাঙনের গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা নতুন করে বন্যা ও ভাঙনের আশঙ্কায় পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছেন। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষ আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছেন।