বাজারে পেঁয়াজের দামের অস্থিরতার মধ্যেই গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছেন পীরগঞ্জ উপজেলার প্রান্তিক কৃষক তাইবুর রহমান। তিনি বাড়ির পাশে ৩৩ শতাংশ জমিতে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এই পেঁয়াজ চাষ করেন এবং প্রথমবারেই ভালো ফলন পান।
কৃষক তাইবুর রহমান জানান, তিনি প্রণোদনার আওতায় ১ কেজি পেঁয়াজ বীজ থেকে চারা উৎপাদন করেন। পরে মাঘ মাসে সেই চারা ৩৩ শতক জমিতে রোপণ করেন। কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পরিচর্যার ফলে ফলন ভালো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গ্রীষ্মকালে পেঁয়াজ চাষ করা যায়—এটা আগে কেউ বিশ্বাস করত না। এখন নিজের চোখে দেখলাম ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।’
তিনি আরও জানান, উৎপাদিত পেঁয়াজ কন্দ সংরক্ষণ করে সেখান থেকে বীজ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ভবিষ্যতে বাড়তি আয় হবে।
স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেশে পেঁয়াজের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরকার কৃষকদের মধ্যে নাসিক রেড এন-৫৩ জাতের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় বালাইনাশক বিনামূল্যে বিতরণ করেছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ প্রদান করেছেন।
এই জাতের পেঁয়াজ ১১০–১২০ দিনের মধ্যে সংগ্রহ করা যায়। প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ প্রায় ২০ হাজার টাকা। উৎপাদিত কন্দ থেকে প্রতি কেজি বীজ প্রায় ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা সম্ভব, যা কৃষকদের জন্য অধিক লাভজনক।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোফাজুল হক জানান, নিয়মিত পরামর্শ ও সঠিক পরিচর্যার কারণে এবার গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের ভালো ফলন হয়েছে। ভবিষ্যতে এই বীজ থেকে কৃষকরা ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হাসান বলেন, খরা ও অতিবৃষ্টিসহ বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় পীরগঞ্জে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ সফল হয়েছে। এই ফসল তুলনামূলকভাবে লাভজনক এবং উৎপাদন খরচও কম। সরকার এ চাষে প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে, যাতে পেঁয়াজ উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং আমদানি নির্ভরতা কমে।