বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে নতুন প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, দেশের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সক্ষম কোনো বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিককে বিনিয়োগের মোট অর্থের ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমিশন বা পরামর্শক ফি দেওয়া হবে।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য জহরত আদীব চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ ছিল বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফা সহজে নিজ দেশে স্থানান্তর করতে না পারা। সরকার প্রয়োজনীয় আইনগত সংস্কারের মাধ্যমে সেই জটিলতা দূর করেছে। পাশাপাশি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমিশন প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ পদক্ষেপের ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বিদেশি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
সংসদে আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও গতিশীল করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন কার্যক্রম অনলাইনে দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রপ্তানি নীতিমালা হালনাগাদ এবং আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯ প্রণয়নের কাজও চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে শুল্কসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা কমানো, মূল্য পরিশোধ প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং এলসি ছাড়া চুক্তিভিত্তিক আমদানির সুযোগ সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার কোনো ধরনের বৈষম্যে বিশ্বাস করে না। সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে সমান গুরুত্ব ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, এ পর্যন্ত ৬০ হাজার ৪৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড এবং ২০ হাজার ৭৪৮ জনকে কৃষক কার্ড প্রদান করা হয়েছে। কৃষি খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়মিত সম্মানী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
শিল্প খাতের বিকাশে সহায়তা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এ তহবিল থেকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।