বয়স বেড়েছে, কমেছে গতি। তবে কমেনি জয়ের ক্ষুধা কিংবা স্বপ্ন ছোঁয়ার আকাঙ্ক্ষা। ৪১ বছর বয়সেও তাই মাঠে সমান তালে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। অনেক সমসাময়িক ফুটবলার অবসর নিয়ে পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনে মনোযোগ দিলেও রোনালদো এখনো বুটজোড়া খুলে রাখেননি। কারণ একটি অপূর্ণ স্বপ্ন এখনও তাকে তাড়া করে ফিরছে—বিশ্বকাপ জয়।
পাঁচবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েও ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফিটা হাতে তুলতে পারেননি রোনালদো। ২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপে পর্তুগালকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। তবে এরপরের আসরগুলোতে বারবার হতাশাই সঙ্গী হয়েছে ইউরোপীয় দলটির।
বিশেষ করে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর কাছে হারের পর রোনালদোর কান্নাভেজা বিদায়ের দৃশ্য বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তখন অনেকেই মনে করেছিলেন, বিশ্বকাপ মঞ্চে আর দেখা যাবে না পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকাকে।
কাতার বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদো লিখেছিলেন, পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপ জেতাই ছিল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার বেদনা তিনি প্রকাশ করেছিলেন আবেগঘন বার্তায়।
তবে সময় বদলেছে। নতুন উদ্যমে আবারও বিশ্বকাপের পথে হাঁটছেন রোনালদো। সামনে ২০২৬ বিশ্বকাপ, আর সেটিই হতে পারে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। ফুটবল ইতিহাসে নিজের নামকে আরও উজ্জ্বল করে তোলার এটাই শেষ সুযোগ।
এবারের পর্তুগাল দলকে অনেকেই দেশের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী স্কোয়াড হিসেবে দেখছেন। মিডফিল্ডে ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস, ব্রুনো ফার্নান্দেস ও বের্নার্দো সিলভাদের মতো তারকা রয়েছেন। রক্ষণে আছেন নুনো মেন্ডেসসহ বেশ কয়েকজন নির্ভরযোগ্য ফুটবলার। আর আক্রমণভাগে রোনালদোর সঙ্গে জুটি বাঁধতে পারেন রাফায়েল লিয়াও ও জোয়াও ফেলিক্স।
পর্তুগালের সাবেক উইঙ্গার আন্তোনিও সিমায়েশও আশাবাদী। তার মতে, বর্তমান পর্তুগাল দলে শক্তিশালী রক্ষণ, সৃষ্টিশীল মিডফিল্ড এবং কার্যকর আক্রমণভাগ—সবই রয়েছে। তাই ইতিহাস গড়ার সামর্থ্য রাখে দলটি।
ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় প্রায় সবকিছুই রয়েছে রোনালদোর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ও সর্বাধিক গোলের রেকর্ড তার দখলে। পেশাদার ক্যারিয়ারে গোলসংখ্যাও ছুঁইছুঁই এক হাজারের মাইলফলক।
তবে এতসব সাফল্যের মাঝেও বিশ্বকাপ ট্রফির শূন্যতাই সবচেয়ে বড় আক্ষেপ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী Lionel Messi ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ারের পূর্ণতা পেয়েছেন। এবার রোনালদোর সামনে সুযোগ সেই অপূর্ণ অধ্যায়টি পূরণ করার।
ফুটবল বিশ্বের কোটি ভক্ত এখন অপেক্ষায়—শেষ বিশ্বকাপ যাত্রায় কি রোনালদো পারবেন স্বপ্নের সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে, নাকি অপূর্ণ স্বপ্ন নিয়েই বিদায় বলতে হবে কিংবদন্তি এই তারকাকে?