কৃষি নির্ভরশীল মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কৃষক কম খরচে অধিক লাভের আশায় ঝুকে পরছে কলা চাষে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় অল্প পরিশ্রমে দ্রুত ফলন, ঝুকি কম এবং বাজারে সারা বছর চাহিদা থাকায় অনেক কৃষক ধান ও অন্যান্য ফসলের জমিতে কলা চাষে ঝুঁকছেন।
উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার উঁচু জমিতে এখন চোখে পড়ছে বিস্তীর্ণ কলাবাগান। আগে বানিজ্য ভাবে কলার বাগান না থাকলেও উপজেলার প্রতিটি এলাকায় বাড়ির আঙ্গিনায়, রাস্তা ঘাটে, পকুরপাড়ে ও পরি ত্যাক্ত জমিতে কলার গাছ রোপন করে এলাকার চাহিদা পুরুন করতো।
স্থানীয় বাজারে ভালো দামে বিক্রি করতো, অধিক লাভ ও কম পরিশ্রমের কথা চিন্তা করে। সার ক্রয়ের ঝামেলা নাই ও পরিচর্যা কম লাগে বিধায় শিবচর উপজেলার অনেক কৃষক ফসলি জমিতে কলার আবাদ শুরু করছে।
লোকসানের কোনো ঝুকি নাই দ্রুত ফলন। সারাবছর বাগানের কলা বিক্রি হয়। আদিকাল থেকেই শিবচর উপজেলার কাচিকাটার বিখ্যাত সবরি কলার নাম ছিল; তাহা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি চাষ হচ্ছে বানিজ্যক ভাবে। শুধু ঝড়ে গাছ ভেঙ্গে বাগান ক্ষতি ছাড়া আর কেনে ক্ষতি হয় না। এখন উমেদপুর, ভদ্রাসন, ভান্ডারীকান্দি, দিতীয়া খন্ড, কতুবপুর ও দত্তপাড়ায় প্রায় চারশত একর কৃষি জমিতে সবরীসহ বিভিন্ন জাতের সাগরকলা, সবরি কলা, ও কবরি কলার বানিজ্যিক ভাবে আবাদ শুরু করেছে। তবে বিচি কলার রোপন বিলুপ্তির পথে।
এদিকে সবজির জন্য আনাজি কলার চাষ ও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কলা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।
শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আলীমুজ্জামান বলেন, আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী আধুনিক চাষাবাদের ফলে কলা চাষে অনেক কৃষক বছরে একাধিকবার আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও শিবচরের কলা সরবরাহ করা হচ্ছে। কলার চাষী লাভের কারনে বেশী আবাদ করছে।
ভদ্রাসনের কৃষক আব্দুল আলীম জানান, আমারা কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। ইরিধান রোপনে প্রতিবছর লোকসান হয়। পিয়াজ ও রসুন ঘড়ে তোলার সময় বৃষ্টি বাদলের কারণে ক্ষতি হয়। কলই, কালাই, কালোজিরাসহ অন্যান ফসলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সময় মতো ফসল ঘরে তুলতে না পারা এবং সঠিক বাজার মূল্য না পাওয়ায় লোকসান হয় বিধায় কলার চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
লাভজনক এই ফসলের চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিবচরের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে।