সিংড়ায় আকস্মিক বন্যায় ভুট্টাচাষিদের ব্যাপক ক্ষতি

সিংড়া (নাটোর) সংবাদদাতা

সারাদেশ

নাটোরের সিংড়ার চলনবিলে আকস্মিক বন্যায় ভুট্টা চাষিদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। হঠাৎ পানিতে ডুবে গেছে পাকা ভুট্টার জমি। এতে

2026-06-09T16:06:17+00:00
2026-06-09T16:06:17+00:00
  সোমবার, ২২ জুন ২০২৬,
৮ আষাঢ় ১৪৩৩
 
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
সারাদেশ
সিংড়ায় আকস্মিক বন্যায় ভুট্টাচাষিদের ব্যাপক ক্ষতি
সিংড়া (নাটোর) সংবাদদাতা
মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৪:০৬ পিএম 
ছবি ভোরের ডাক
নাটোরের সিংড়ার চলনবিলে আকস্মিক বন্যায় ভুট্টা চাষিদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। হঠাৎ পানিতে ডুবে গেছে পাকা ভুট্টার জমি। এতে কৃষকরা বাধ্য হচ্ছেন পানির মধ্যে নৌকা ব্যবহার করে ভুট্টা সংগ্রহ করতে, আবার শুকানোর জন্য রাস্তায় ও উঁচু স্থানে নিয়ে যেতে হচ্ছে। ফলে শ্রমিক খরচও বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দৈনিক ১ হাজার থেকে ১৫শ টাকা মজুরি দিয়েও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক কৃষক নিজ উদ্যোগে ভুট্টা ভেঙে শুকানোর কাজ করছেন।

কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষে লিজ, সেচ, সার ও শ্রমিক মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা। কিন্তু ফলন পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১২ থেকে ১৫ মণ। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি মণ ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১,০০০ টাকায়। ফলে প্রতি বিঘায় প্রায় ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।

সরেজমিনে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের কাউয়াটিকরী গ্রামের দক্ষিণ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, অনেক জমি এখনো পানির নিচে। কৃষকরা নৌকা দিয়ে ভুট্টা সংগ্রহ করছেন এবং পাশের উঁচু রাস্তা ও গ্রামে এনে শুকানোর কাজ করছেন।

ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল মমিন জানান, তার ১০ বিঘা জমির মধ্যে ৮ বিঘার ভুট্টা পানিতে ডুবে গেছে। এতে ফলন কমে যাওয়ার পাশাপাশি ভুট্টার মানও নষ্ট হয়েছে, ফলে দামও কম পাচ্ছেন তিনি।

কৃষক শাহিন জানান, তিনি ৪ বিঘা জমির ভুট্টা কেটে পাশের বেড়াবাড়ি ও পাড়িল গ্রামের রাস্তায় এনে শুকাচ্ছেন। তার মতে, প্রতি বিঘা চাষে মোট খরচ হয়েছে ২২ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা, কিন্তু আয় আসছে তার চেয়ে অনেক কম।

আরেক কৃষক তমেজ উদ্দিন বলেন, চলনবিলের বেড়াবাড়ি, কাউয়াটিকরী ও পাড়িল এলাকার মাঠে এবার দুই দফা আকস্মিক বন্যায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বোরো ধানের সময়ও ক্ষতি হয়েছিল, এখন ভুট্টা মৌসুমেও একই পরিস্থিতি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। বেশিরভাগ জমির ভুট্টা ইতোমধ্যে কৃষকরা ঘরে তুলেছেন এবং ফলনও ভালো হয়েছে। তবে আকস্মিক বন্যায় বিলের নিচু এলাকার কিছু কৃষকের ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: