মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় স্বামীকে আটকে রেখে দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ঘিওর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আগে ৭ জুন ভুক্তভোগী নারী মামলা দায়ের করেন। তবে বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় শুরুতে প্রকাশ করা হয়নি।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভুক্তভোগী গৃহবধূ তার স্বামীর সঙ্গে দৌলতপুর থানার চন্দ্রখোলা গ্রাম থেকে পাবনার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে ঘিওর উপজেলার নিলুয়া মোড়ে পৌঁছালে সাগর (২৮) নামের এক যুবকসহ ৫-৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের গতিরোধ করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে তাদের জোরপূর্বক ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের ছোট নিলুয়া এলাকার একটি পাটক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভুক্তভোগীর স্বামীকে বেঁধে আটকে রাখা হয় এবং প্রধান অভিযুক্ত সাগর গৃহবধূকে পাটক্ষেতের ভেতরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে পাহারা দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা দম্পতিকে একটি ফাঁকা ভিটায় নিয়ে যায় এবং পরিস্থিতি তৈরি হলে পালিয়ে যায়। স্থানীয় রূপচান নামের এক ব্যক্তি দম্পতিকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেন এবং পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের ঘিওর থানায় নেওয়া হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া এবং স্বামীর সঙ্গে পরামর্শের কারণে অভিযোগ দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। তাকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।”