হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদে ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ও ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ভাঙচুরের পাশাপাশি পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
সোমবার (৮ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মাঠে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর একটি মামলার কারণে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ কারাগারে গেলে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনকে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেয়ে ফরিদ আহমেদ দায়িত্বে ফেরার চেষ্টা করেন। তবে দীর্ঘ সময় প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক সমর্থন নিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
সম্প্রতি উচ্চ আদালতের অনুমতি নিয়ে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করতে গেলে এ বিরোধ চরমে পৌঁছায়। সোমবার সকালে তিনি পরিষদে গেলে দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালানো হয়।
সংঘর্ষের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বানিয়াচং থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে উভয়পক্ষের শতাধিক লোক আহত হন। আহতদের হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল ও বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।