সুন্দরবনের উপকূলে বারোমাসি কাটিমন আমের বিপ্লব

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

সারাদেশ

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের উপকূলবর্তী অঞ্চল বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় বারোমাসি কাটিমন আম চাষ করে ব্যাপক সাফল্যের নজির স্থাপন করেছেন কৃষক হালদার

2026-06-08T20:28:06+00:00
2026-06-08T20:28:06+00:00
  সোমবার, ৮ জুন ২০২৬,
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
 
  ই-পেপার   
           
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
সারাদেশ
সুন্দরবনের উপকূলে বারোমাসি কাটিমন আমের বিপ্লব
মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৮:২৮ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের উপকূলবর্তী অঞ্চল বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় বারোমাসি কাটিমন আম চাষ করে ব্যাপক সাফল্যের নজির স্থাপন করেছেন কৃষক হালদার রুহুল মোমিন মুকুল। দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের এই তরুণ কৃষক চাকরির পেছনে না ছুটে আত্মকর্মসংস্থানের স্বপ্ন নিয়ে শুরু করেছিলেন কৃষি উদ্যোগ। আজ তাঁর সেই উদ্যোগই এলাকায় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে একসময় উন্নত জাতের আম চাষ প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হতো। তবে সেই ধারণা বদলে দিয়েছেন মুকুল। নিজের মেধা, শ্রম ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সমন্বয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যা থাকলে উপকূলীয় এলাকাতেও লাভজনক ফলচাষ সম্ভব।

জানা গেছে, ২০২০ সালে পৈতৃক দুই একর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে কাটিমন আমের বাগান গড়ে তোলেন তিনি। চুয়াডাঙ্গা থেকে ১০০টি কাটিমন আমের চারা এনে রোপণ করেন। প্রথম বছরেই আশানুরূপ ফলন পেয়ে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ করেন। এতে উৎসাহিত হয়ে আরও ২০০টি চারা রোপণ করেন। বর্তমানে তাঁর বাগানে মোট ৩০০টি কাটিমন আমগাছ রয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে বাগান ঘুরে দেখা যায়, গাছের ডালে ডালে থোকায় থোকায় ঝুলছে পাকা ও আধাপাকা আম। সবুজ পাতার ফাঁকে সোনালি আভা ছড়ানো আমগুলো যেন কৃষকের পরিশ্রম ও সফলতার সাক্ষ্য বহন করছে। বারোমাসি কাটিমন আম সুস্বাদু, রসালো ও মিষ্টি হওয়ায় ভোক্তাদের কাছে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। আঁটি তুলনামূলক পাতলা হওয়ায় এই জাতের আম বাজারে বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

বর্তমানে বাগান থেকেই প্রতি কেজি কাটিমন আম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছরে বাগানের পরিচর্যা, শ্রমিক মজুরি, সার ও কীটনাশক বাবদ প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে ফলনের পরিমাণ বিবেচনায় এবার ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার আম বিক্রির আশা করছেন মুকুল।

সফল কৃষক হালদার রুহুল মোমিন মুকুল বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই কিছু করব। আমাদের এই উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার কারণে আগে আমচাষ তেমন হতো না। কিন্তু নিয়মিত মিষ্টি পানির ব্যবস্থা করায় কাটিমন আমের চাষে দারুণ ফলন পেয়েছি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আমি ক্রেতাদের হাতে বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম তুলে দিতে পারছি। এটাই আমার সবচেয়ে বড় আত্মতৃপ্তি।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই সরাসরি বাগানে এসে নিজের হাতে আম সংগ্রহ করছেন। এছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আম পাঠানো হচ্ছে। এতে যেমন ভালো দাম পাওয়া যায়, তেমনি ক্রেতারাও নিরাপদ ও তাজা ফল পাচ্ছেন।

স্থানীয়দের মতে, মুকুলের এই সাফল্য এলাকার তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। তাঁর বাগান পরিদর্শন করে অনেকেই বারোমাসি আমসহ অন্যান্য ফলচাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে এলাকায় কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বাজারে কাটিমন আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সাধারণ আমের তুলনায় এর দামও বেশি। উপজেলার খাউলিয়া, বনগ্রামসহ কয়েকটি ইউনিয়নে সীমিত পরিসরে কাটিমন আমের চাষ হলেও দৈবজ্ঞহাটীর খালকুলা গ্রামের কৃষক রুহুল মোমিন মুকুল বাণিজ্যিকভাবে এই আমের চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তাঁর এই সফলতা গোটা উপজেলায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে এবং অন্য কৃষকদেরও উদ্বুদ্ধ করছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা মোকাবিলা করে ফলচাষের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে পারলে কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের ফল উৎপাদনেও নতুন মাত্রা যোগ হবে। আর সেই সম্ভাবনার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছেন মোরেলগঞ্জের কৃষক হালদার রুহুল মোমিন মুকুল।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: