খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি অপারেশন থিয়েটার (ওটি) প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। এতে শতাধিক রোগীর নির্ধারিত অস্ত্রোপচার অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে এবং নতুন রোগীরাও চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।
নার্ভের অপারেশনের জন্য এক মাসেরও বেশি আগে রামপাল থেকে আসা সুলতানা আক্তার নাইচের অস্ত্রোপচার ২০ মে নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ওই দিনই হাসপাতালের ওটিতে আগুন লাগায় তার অপারেশন স্থগিত হয়ে যায়। এরপর ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো তারিখ দিতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ থেকে আসা ব্রেন টিউমার রোগী এছার জোমাদ্দারসহ আরও বহু রোগী। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নির্ধারিত অপারেশন বাতিল হয়ে যাওয়ায় অনেকেই মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০ মে ভোরে অগ্নিকাণ্ডে ইমার্জেন্সি অপারেশন থিয়েটার এবং পোস্ট-অপারেটিভ ইউনিটের অক্সিজেন লাইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে জরুরি ও চক্ষু বিভাগের অপারেশন থিয়েটার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে একটি ওটি চালু থাকলেও সেটি দিয়ে প্রতিদিন মাত্র সীমিত সংখ্যক অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, অপারেশন বিলম্ব হওয়ায় অনেক রোগীর অবস্থা অবনতি হচ্ছে এবং কিছু রোগী মৃত্যুঝুঁকিতেও রয়েছেন। পোস্ট-অপারেটিভ ইউনিট বন্ধ থাকায় আইসিইউ থেকে ৬টি বেড অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা সংকট আরও বাড়িয়েছে।
সার্জারি বিভাগের প্রধান আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, রোগীদের সামনে আমাদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। অনেক রোগীর অপারেশন ইতোমধ্যে পিছিয়ে গেছে, কবে নাগাদ করা যাবে তা অনিশ্চিত।
অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের প্রধান দিলীপ কুণ্ডু জানান, পোস্ট-অপারেটিভ ব্যবস্থা না থাকায় সীমিতভাবে কাজ চালাতে হচ্ছে, ফলে আইসিইউ ব্যবস্থাপনাও চাপের মুখে পড়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সচল একটি ওটিতে প্রতিদিন ১০–১২টি অপারেশন করা হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি ওটি মেরামত ও পুনরায় চালুর জন্য আরও প্রায় ২০ দিন সময় লাগবে বলে গণপূর্ত বিভাগ জানিয়েছে।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হালিম জানান, ইতোমধ্যে মূল্যায়ন শেষ করে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ওটি চালুর চেষ্টা চলছে।
এদিকে হাসপাতাল পরিচালক কাজী আইনুল ইসলাম বলেন, রোগীর চাপ দিন দিন বাড়ছে। শয্যার দ্বিগুণ রোগী ভর্তি হচ্ছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় অপারেশন সুবিধা সীমিত থাকায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
গত ২০ মে অগ্নিকাণ্ডে হাসপাতালের তৃতীয় তলার অপারেশন থিয়েটারে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেদিন একজন রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে এবং কয়েকজন আহত হন। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে।
বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে, আর দ্রুত ওটি চালুর দাবি জোরালো হচ্ছে।