বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও খাতভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু হলেও সুশাসনের ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা এবং দলীয় প্রভাব বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ঝুঁকি তৈরি করছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
রবিবার (৭ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. জুলকারনাইন ও রিসার্চ ফেলো রাজিয়া সুলতানা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার গঠনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে বিভিন্ন হাটবাজার, পরিবহন খাত, বাসস্ট্যান্ড ও ট্রাকস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও রয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে ১০০ দিনের মধ্যে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
টিআইবির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, প্রশাসন, পুলিশ, ব্যাংকিং খাত, স্থানীয় সরকার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয় ও গোষ্ঠী বিবেচনায় নিয়োগ ও পদায়নের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে, যা ঘোষিত অঙ্গীকারের পরিপন্থী।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সমাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘এবার আমাদের পালা’ ধরনের মনোভাব দৃশ্যমান হয়েছে, যা প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এছাড়া ধর্মীয় ও সামাজিক সহিংসতার ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। সম্প্রতি শাহ আলী মাজার ও কুষ্টিয়ায় একজন পীরের ওপর হামলার ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়, যা সামাজিক সহনশীলতার জন্য উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৭টি আইনে রূপান্তরের উদ্যোগকে ইতিবাচক বলা হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইন বাতিল বা স্থগিত করার মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং দুর্নীতি দমন কাঠামো দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
টিআইবির মতে, সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রম একদিকে সম্ভাবনাময় হলেও অন্যদিকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র কাঠামো গঠনে সুস্পষ্ট রোডম্যাপের ঘাটতি রয়েছে, যা ভবিষ্যৎ বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানসহ সংগঠনের অন্যান্য গবেষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।