হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা সদর থেকে রাজাপুর বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির ১ কোটি ৩৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ব্যয়ে চলমান সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দায়সারা কাজ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং যথাযথ তদারকির অভাবে সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কে পিচ ঢালাইয়ের আগে নিয়ম অনুযায়ী যে প্রাইম কোট (স্থানীয়ভাবে ‘ভিটামিন’) প্রয়োগ করার কথা, তা কয়েকদিন আগে দেওয়া হলেও টানা বৃষ্টিতে প্রায় সম্পূর্ণ ধুয়ে গেছে। ফলে সড়কের অনেক অংশে প্রাইম কোটের কোনো অস্তিত্ব চোখে পড়েনি। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুনরায় প্রাইম কোট না দিয়েই ওই অংশে পিচ ঢালাই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সড়ক নির্মাণ সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাইম কোট ছাড়া পিচ ঢালাই করলে পিচ ও ভিত্তি স্তরের মধ্যে যথাযথ সংযোগ তৈরি হয় না। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই পিচ উঠে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং রাস্তার স্থায়িত্ব কমে যায়।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর নতুন করে সড়ক সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও কাজের মান নিয়ে এখন দেখা দিয়েছে তীব্র অসন্তোষ।
স্থানীয় বাসিন্দা জুবাঈদ আহমদ বলেন, “আমরা কয়েকদিন ধরে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানাচ্ছি। কিন্তু কোনো নিয়ম মেনে কাজ করা হচ্ছে না। এভাবে কাজ হলে রাস্তা বেশিদিন টিকবে না।”
আরেক বাসিন্দা নুরুদ্দীন বলেন, “প্রাইম কোট ছাড়া পিচ দেওয়া মানে সরকারি টাকা অপচয় করা। নিম্নমানের কাজের কারণে জনগণ আবারও দুর্ভোগে পড়বে।”
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিফা ভুইয়ার প্রতিনিধি বাধনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি।
অন্যদিকে কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। এতে প্রকল্পের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এলজিইডির সার্ভেয়ার উজ্জ্বল মণ্ডল বলেন, “প্রাইম কোট দেওয়ার পর বৃষ্টি বা যানবাহন চলাচলের কারণে তা উঠে গেলে পুনরায় প্রাইম কোট দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুনরায় প্রাইম কোট দিয়ে পিচ ঢালাই করা উচিত ছিল। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছর ভোগান্তির পর পাওয়া এই সড়কটি যদি শুরুতেই অনিয়মের শিকার হয়, তবে তা সরকারের অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ আরও বাড়াবে।
এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজের মান যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।