দেশের বিভিন্ন সীমান্তে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত রক্ষীদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সীমান্তে উত্তেজনা বিষয়ে কয়েকটি বিষয়ের মধ্যে রয়েছে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন এবং সীমান্ত অপরাধ রোধ করাকে কেন্দ্র করে। চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন এবং সীমান্ত অপরাধ ঠেকাতে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বিজিবি'র সাথে স্থানীয় জনগণ একাত্মতা পোষণ করে যৌথ টহল এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সংগ্রাম ক্যাম্পের আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় শনিবার গভীর রাতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিজিবির টহল দলের সাথে লাঠি ও টর্চলাইট হাতে যোগ দিয়েছেন স্থানীয় যুব ও প্রবীণ স্বেচ্ছাসেবকরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্ত সুরক্ষিত থাকলে তাদের ঘরবাড়ি এবং পরিবার নিরাপদ থাকে। বিজিবির এই উদ্যোগে শামিল হতে পেরে তারা গর্বিত অনুভব করছেন। এতে অপরাধীদের তৎপরতা যেমন কমছে, তেমনি সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে নিরাপত্তার আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
সংগ্রাম ক্যাম্পের বিওপি কমান্ডার শহিদুল আলম জানান, জনসাধারণই আমাদের মূল শক্তি। সীমান্ত রক্ষা কেবল বিজিবির একার দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য। স্থানীয় জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যৌথ এই নজরদারির কারণে রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পারাপার বা যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
ঝড়-বৃষ্টি কিংবা তীব্র শীত-যেকোনো প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে দেশমাতৃকার সুরক্ষায় বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ সিলেট ব্যটালিয়ান (৪৮ বিজিবি)'র আওতাধীন সংগ্রাম ক্যাম্পের এই টহল অব্যাহত থাকবে বলে বিজিবি ও স্থানীয়রা তাদের অভিমত ব্যক্তয় করেছেন। অন্ধকার রাতে টর্চের আলো, বাঁশির শব্দ আর বুটের আওয়াজে মুখরিত এই সীমান্ত আজ এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে বলে জানান তিনি।