ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মালবীয় নগর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুমিল্লার নুরুল আমিন সোহাগ (৪০) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছোট বোন ও ভগ্নিপতি গুরুতর দগ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্র ও স্থানীয় প্রশাসন জানায়, নিহত নুরুল আমিন সোহাগ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের সাঙ্গীশ্বর গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে। তিনি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কয়েকদিন আগে মালব্য নগর এলাকায় যান।
নিহতের স্বজন হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার জানায়, গত বুধবার (৩ জুন) সকালে মালবীয় নগরের একটি পাঁচতলা আবাসিক হোটেল “বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট” এ হঠাৎ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুনে সেখানে থাকা অন্তত আটজন বাংলাদেশি দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে সোহাগ, তার বোন এবং ভগ্নিপতি গুরুতরভাবে আহত হন।
দগ্ধদের দ্রুত উদ্ধার করে ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নুরুল আমিন সোহাগের মৃত্যু হয়। তার বোন ও ভগ্নিপতির অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এর আগে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে মোট ৮ বাংলাদেশিসহ বেশ কয়েকজন আহত হন এবং ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত মোট ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে নিহতের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।