ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঢাকা–মাওয়া–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় একই পরিবারের ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই শিশু গুরুতর আহত হলেও তারা অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর রাতে উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নূরজাহান বেগম (৫০), তার ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফ ইসলাম (২৪), ছোট ছেলে রাকিব ইসলাম (১৮), বড় মেয়ে আয়শা বেগম (২৮) এবং প্রাইভেটকার চালক জাহিদ শেখ (৩২)। চালক জাহিদ শেখ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নূর ইসলাম শেখের ছেলে।
দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় বেঁচে যায় নিহত আয়শা বেগমের দুই সন্তান—আশরাফুল হোসেন (৭) ও তাছফিয়া (৩)। তাদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা এখন আশঙ্কামুক্ত।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাঁচ বছর পর মালয়েশিয়া থেকে ছুটি নিয়ে দেশে ফেরেন আরিফ ইসলাম। তাকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রিসিভ করতে পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় যান। রাত ১টার দিকে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে ভোরের দিকে মালিগ্রাম এলাকায় দাঁড়ানো গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই ট্রাকের পেছনে তাদের প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কার পর প্রাইভেটকারটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন এবং পরবর্তীতে চালক জাহিদ শেখ মারা যান।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু জাফর জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রাইভেটকার চালক ঘুমিয়ে পড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
শিবচর হাইওয়ে থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর ট্রাক ও প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে একই পরিবারের একসঙ্গে পাঁচজনের মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।