আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের সহ-সভাপতি পদে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান।
মঙ্গলবার (২ জুন) জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিশ্বব্যাপী শ্রমনীতি, শ্রম অধিকার ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ফোরামে বাংলাদেশের নির্বাচনকে একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উরুগুয়ের শ্রম ও সামাজিক সুরক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী জুয়ান কাস্টিলো। সহ-সভাপতি হিসেবে নাহিদা সোবহানের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার জেরার্দো মার্তিনেজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টেন কফম্যান দায়িত্ব পালন করবেন।
আইএলওর ১৮৭টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সর্বসম্মত সমর্থনে এই পদে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক শ্রম ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের নেতৃত্বের স্বীকৃতি আরও জোরালো হয়েছে।
একই সঙ্গে শোভন কর্মসংস্থান, সামাজিক ন্যায়বিচার, শ্রমিক অধিকার সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার গণতান্ত্রিক কার্যক্রমে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের প্রতিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা প্রতিফলিত হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরিবর্তনশীল বিশ্বে শ্রম খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক কূটনীতি জোরদার করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা এ নির্বাচনের মাধ্যমে আরও দৃঢ়ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
সম্মেলনের সহ-সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে আইএলওর সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীজনদের মধ্যে নীতিগত ঐকমত্য গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলন আইএলওর সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরাম। ‘বিশ্বের শ্রম সংসদ’ হিসেবে পরিচিত এ সম্মেলনে প্রতি বছর বিভিন্ন দেশের সরকার, শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে শ্রম খাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণী বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। এ বছরের সম্মেলনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন।