আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে রেফারিং ব্যবস্থায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়েও নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এসব নতুন নিয়ম অনুমোদন করেছে ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (IFAB)।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কর্নার কিক বা ফ্রি-কিক নেওয়ার আগে পেনাল্টি বক্সে কোনো ফাউল বা অনিয়ম ঘটলে এবং তার সরাসরি প্রভাবে গোল বা পেনাল্টি আদায় হলে ভিএআর সেই ঘটনা পর্যালোচনা করতে পারবে। প্রয়োজন হলে প্রধান রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউয়ের মাধ্যমে ভিডিও দেখিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হবে।
রেফারি যদি নিশ্চিত হন যে বল খেলায় ফেরার আগেই অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, তাহলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি গোল বা পেনাল্টি বাতিল করা হবে। এরপর কর্নার কিক বা ফ্রি-কিকটি পুনরায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।
ফিফার রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যান পিয়েরলুইজি কলিনা জানিয়েছেন, অতীতে এমন কিছু ঘটনায় ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা নতুন নিয়মের মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ তৈরি করবে।
এছাড়া দ্বিতীয় হলুদ কার্ড থেকে লাল কার্ডের ঘটনাতেও সীমিত পরিসরে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে। বিশেষ করে ভুল খেলোয়াড়কে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে।
খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়েও কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। ম্যাচ চলাকালে হাত, বাহু বা জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে গোপন বা উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা করলে রেফারিরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী লাল কার্ডও দেখানো হতে পারে।
একই সঙ্গে চোটের অজুহাতে খেলার গতি নষ্ট করা এবং চিকিৎসার সময় দলীয় বৈঠক করার প্রবণতা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফিফা। বিশেষ করে গোলকিপারের চিকিৎসা চলাকালে অন্য খেলোয়াড়দের টাচলাইনে গিয়ে কোচের কাছ থেকে কৌশলগত নির্দেশনা নেওয়ার ঘটনা আর সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ফিফার মতে, এসব পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো খেলার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, সময়ক্ষেপণ কমানো এবং রেফারিং সিদ্ধান্তকে আরও নির্ভুল ও ন্যায়সঙ্গত করা। আসন্ন বিশ্বকাপে নতুন নিয়মগুলোর প্রভাব মাঠে কতটা দেখা যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।