হেডিংলি টেস্টে ইংল্যান্ডের কাছে ইনিংস ও ১০৩ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান। মাত্র আড়াই দিনেই ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ার পর এবার দলের এমন ভরাডুবির পেছনে ইংল্যান্ডের ঠান্ডা আবহাওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন পাকিস্তানের বোলিং কোচ উমর গুল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শেষ করে ইংল্যান্ডে যাওয়ার সময় গরম আবহাওয়ার মধ্যেই ছিল পাকিস্তান দল। প্রস্তুতি ম্যাচেও আবহাওয়া ছিল তুলনামূলক উষ্ণ। তবে হেডিংলিতে পৌঁছানোর পরই পরিস্থিতি বদলে যায়। বৃষ্টি ও তীব্র ঠান্ডার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে না পারায় দলের বোলাররা নিজেদের পরিকল্পনা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেননি বলে মনে করেন গুল।
তিনি বলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ইংল্যান্ডে যাওয়ার সময় আবহাওয়া বেশ গরম ছিল। ক্রয়ডনে প্রস্তুতি ম্যাচের সময়ও একই ধরনের আবহাওয়া পেয়েছিল দল। কিন্তু হেডিংলিতে গিয়ে বৃষ্টি ও ঠান্ডার মুখোমুখি হতে হয়। এমন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় প্রয়োজন ছিল।
গুলের দাবি, আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে বোলাররা নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি। তবে পরের ম্যাচে ক্রিকেটাররা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ভালো করবে বলে আশাবাদী তিনি।
হেডিংলি টেস্টের আগে চার পেসার নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু ম্যাচের আগের দিন উইকেটের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় একজন স্পিনার খেলানোর সিদ্ধান্ত নেয় টিম ম্যানেজমেন্ট।
উমর গুল মনে করেন, উইকেট দেখে ওই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তবে ইংল্যান্ডের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য পাকিস্তান দলের পর্যাপ্ত সময় ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হেডিংলি টেস্টে পাকিস্তানের একাদশে ছিলেন না তারকা পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। তাকে না খেলানো নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এর সরাসরি ব্যাখ্যা দেননি উমর গুল। এ বিষয়ে নির্বাচক কমিটিই ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবে বলে জানান তিনি।
গুল অবশ্য শাহিনকে পাকিস্তানের সেরা বোলার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে দলের অন্য পেসারদের ওপরও আস্থা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রথম টেস্টে উবায়েদ শাহর পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে গুল বলেন, ভবিষ্যতে তার কাছ থেকে অনেক কিছু প্রত্যাশা করছে দল। আব্বাস ও মোহাম্মদ আলীর কাউন্টি ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতাও ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে পাকিস্তানের জন্য কাজে আসছে বলে জানান তিনি।
আড়াই দিনে প্রথম টেস্টে বড় পরাজয়ের পর সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে হলে পাকিস্তানকে ব্যাটিং-বোলিংয়ের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের কন্ডিশনের সঙ্গেও দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে। গুলের আশা, পরের ম্যাচে সেই পরিবর্তন দেখা যাবে।