পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা ৭ দিনের সরকারি ছুটি শেষে থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান এবং পুঁজিবাজারের নিয়মিত কার্যক্রম। ফলে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। দীর্ঘ ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে আবারও স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। তবে দীর্ঘ ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে পুরোপুরি কর্মচাঞ্চল্য এখনও ফিরে আসেনি। অনেকের মধ্যেই রয়ে গেছে ঈদের ছুটির আমেজ। ফলে কর্মব্যস্ত মহানগর চট্টগ্রাম ধীরে ধীরে ফিরছে তার চেনা ছন্দে।
কর্মজীবী মানুষের চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরের অলিগলি ও প্রধান সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে মার্কেট ও বিভিন্ন দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ ফিরে এসেছে।
সোমবার সকালে নগরের সিআরবি, আগ্রাবাদ, লালদীঘি, জিইসি মোড়, ওয়াসা মোড় ও টাইগারপাস এলাকার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অফিস ঘুরে দেখা যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত হলেও কাজের চাপ তুলনামূলক কম। অনেকেই সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও কোথাও চায়ের আড্ডা আর ছুটির গল্পেই কেটে যাচ্ছে দিনের প্রথম ভাগ।
সিআরবিতে অবস্থিত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, কর্মচারীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক হলেও সেবাগ্রহীতাদের আনাগোনা এখনও সীমিত। দীর্ঘ ছুটির পর অফিস খুললেও ফাইলের স্তূপ কিংবা আগের দিনের মতো ব্যস্ততা চোখে পড়েনি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই বলছেন, প্রথম দিন হওয়ায় কাজের চাপ কম, তবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় গত কয়েকদিন নগরজুড়ে ছিল তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এবং নগরবাসীর বড় একটি অংশ গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করায় সড়কগুলোও ছিল অনেকটাই ফাঁকা। যানজটমুক্ত চট্টগ্রাম যেন এক ভিন্ন রূপে ধরা দিয়েছিল নগরবাসীর কাছে।
এদিকে মহানগরের বহদ্দারহাট, দুই নম্বর গেট, জিইসি মোড়, নিউ মার্কেট, আগ্রাবাদ, একে খান গেট, অলংকার মোড় ও চকবাজার, ইপিজেডসহ বিভিন্ন এলাকায় রিকশা, বাস এবং ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের মতো যানজট ও ব্যস্ততা দেখা গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার এবং শপিংমলগুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
তবে ঈদের ছুটির সময়ও বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা, ডাক বিভাগসহ জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি হাসপাতাল ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু ছিল। ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনকারী যানবাহন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঈদের ছুটি শেষে সোমবার থেকে ব্যাংকিং কার্যক্রমও স্বাভাবিক নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে। গ্রাহকরা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ব্যাংকিং লেনদেন করতে পারছেন। একই সময়সূচিতে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।
জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা সুব্রত মজুমদার বলেন, সরকারি ছুটি শেষে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। তবে লেনদেন তেমন একটা নেই।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সোমবার থেকে স্বাভাবিক লেনদেন শুরু হয়েছে। শেয়ারবাজারে লেনদেন চলে সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর স্টক এক্সচেঞ্জটির অফিস কার্যক্রম চলে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
এর আগে গত রোববার থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে চট্টগ্রামে ফিরছেন চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষ। দামপাড়া বাস টার্মিনাল, একে খান বাস টার্মিনাল, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন এবং নতুন ব্রিজ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে নগরে ফেরা মানুষের চাপ। দূরপাল্লার বাসগুলোতেও ছিল যাত্রীদের ভিড়।
প্রসঙ্গত, ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা করে সরকার।