জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্কের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিযুক্ত আন্তর্জাতিক আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডটি স্ট্রিট চেম্বার। চিঠিতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ও সহিংসতা নিয়ে প্রকাশিত জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদনের বিভিন্ন উপসংহার নিয়ে গুরুতর আপত্তি জানানো হয়েছে।
গত ২৮ মে পাঠানো ওই চিঠিতে দাবি করা হয়, ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের প্রতিবেদনে বিক্ষোভকালীন হতাহতের সংখ্যা এবং ঘটনাপ্রবাহের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে আন্দোলনের সময় প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হওয়ার যে অনুমান প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে, তা ভুল ও অতিরঞ্জিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকাশিত সরকারি গেজেট অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৮৩৪ জন, যা জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখিত সংখ্যার প্রায় অর্ধেক। এছাড়া বিভিন্ন স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ও আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট সূত্রে হতাহতের সংখ্যা আরও কম বলে দাবি করা হয়েছে।
শেখ হাসিনার পক্ষে পাঠানো চিঠিতে আরো অভিযোগ করা হয় যে, জাতিসংঘের তদন্ত দল রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত তথ্যের ওপর নির্ভর করেছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় যথাযথ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে পরিচালিত তদন্তে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের ভূমিকা থাকায় প্রতিবেদনের স্বাধীনতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চিঠিতে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বলা হয়, তদন্তের সময়সীমা শুধুমাত্র ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকায় পরবর্তী সময়ে সংঘটিত সহিংসতা, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো বিবেচনায় আসেনি।
ডটি স্ট্রিট চেম্বার জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের কাছে প্রতিবেদনের নিহতের সংখ্যা সংক্রান্ত অংশ সংশোধন এবং প্রকাশ্যে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি উপসংহার রাজনৈতিক সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার তদন্ত প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষুণ্ন করতে পারে।
চিঠির শেষাংশে জাতিসংঘকে অনুরোধ জানানো হয়, বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলি সম্পর্কে কোনো বিভ্রান্তিকর বা বিতর্কিত বয়ানকে সমর্থন না করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে পদক্ষেপ নিতে।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।