পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দের মাঝেই মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। ঈদের দুই দিন আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে আঘাত হানা ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। ফলে ঈদের দিনও অন্ধকারে কাটাতে হয়েছে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার হাজারো পরিবারকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝড়ের সময় বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুতের তারের ওপর। এছাড়া ডালপালা ভেঙে পড়ে ছিঁড়ে যায় অসংখ্য বৈদ্যুতিক তার। অনেক স্থানে বিদ্যুতের মিটার ও খুঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুরো উপজেলায় হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
টানা তিনদিন পার হলেও উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বিদ্যুৎ সংযোগ। কোথাও কোথাও আংশিক সরবরাহ চালু হলেও চাহিদার তুলনায় লোডশেডিং বেশি থাকায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ঈদের সময় কোরবানির মাংস সংরক্ষণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক পরিবার নির্ধারিত সময়ে কোরবানি দিতে পারেননি। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে একদিন পিছিয়ে কোরবানি সম্পন্ন করেছেন। তবুও এখনো বহু পরিবার বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঈদের মতো আনন্দঘন সময়ে এমন দুর্ভোগ আগে কখনো দেখেননি তারা। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীনে শিবচর জোনাল অফিসের ডিজিএম অভিলাষ চন্দ্র পাল বলেন, “প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইন ও খুঁটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো প্রায় এক হাজার মিটার ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় সংযোগ চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমাদের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। খুব দ্রুত পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হবে বলে আশা করছি।”