সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল সোমবার রাত থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়াতে থাকে।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার রাত থেকে ভিডিওটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ভাইরাল ভিডিওতে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আজিজুর রহমান দাবি করেন, ভিডিওটি ঢাকার একটি অফিস বা বাসার সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ছড়িয়ে পড়েছে বলে তাদের ধারণা। তবে এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভিডিও প্রসঙ্গে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে যোগাযোগ করা হলে গণমাধ্যমকে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, পরে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দেবেন। এরপর দুপুর ১২টা ১ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম বেগমকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, অবস্থানকালে তার গাড়িচালক এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যান। পরে তিনি ৫ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন। গাজী নজরুল ইসলামের দাবি, ওই ব্যক্তিরা তাদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে তার ব্যবহৃত ভাড়াকৃত গাড়িটিও আটকে রেখে কয়েক দফায় আরও টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। তার দাবি, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
গাজী নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ তার ও দ্বিতীয় স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মরিয়াম বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তাই ভিডিওতে দেখা যাওয়া নারী তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী বলেও দাবি করেন তিনি।
একই সঙ্গে সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান গাজী নজরুল ইসলাম।