ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের আয়-ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এনসিপির শীর্ষ নেতাদের অর্থের উৎস নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন।
রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, এনসিপির আয়ের অন্যতম উৎস “চাঁদাবাজি”। তিনি বলেন, রাজধানীর রূপায়ণে অফিস পরিচালনা, গাড়িবহর ও প্রটোকল ব্যবস্থাপনায় বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, যার উৎস জনগণের সামনে পরিষ্কার করা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিশেষভাবে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সংগঠক সারজিস আলম এবং নাহিদ ইসলাম–এর নাম উল্লেখ করে বলেন, লাখ লাখ টাকা ভাড়া দিয়ে অফিস চালানো হচ্ছে, গাড়ি ও প্রটোকল নিয়ে চলাফেরা করা হচ্ছে—এই অর্থ কোথা থেকে আসে, সেটি জনগণ জানতে চায়।
তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে বিএনপি বা জামায়াতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই; বরং এ নিয়ে এনসিপিই বেশি সক্রিয় ছিল বলে মন্তব্য করেন।
পাটওয়ারীকে ঘিরে কড়া মন্তব্য
এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক ঝিনাইদহ সফরের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, তিনি “অস্ত্রধারী ক্যাডার” নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন। যদিও তাঁর দাবি, ছাত্রদলের কেউ হামলায় জড়িত ছিল না। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের ক্ষোভের মুখে ভবিষ্যতে পাটওয়ারী আরও “হেনস্তার” শিকার হতে পারেন।
জামায়াত নিয়েও সমালোচনা
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এরও কঠোর সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, দলটি দেশের স্বাধীনতার বিরোধী অবস্থানে ছিল এবং অতীতে বিভিন্ন স্বৈরাচারী সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। তাঁর ভাষ্য, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি হচ্ছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য অশনিসংকেত।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহির হাসান, স্থানীয় বিএনপি নেতা তবিবুর রহমান, এস এম সামছুল আলমসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।