রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার ব্যস্ত ফুটপাত। প্রতিদিন হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর এই এলাকায় দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে জুতা বিক্রি করে জীবনের গল্প লিখে চলেছেন আজিজুল হক বাদল। ছোট্ট একটি ফুটপাতের দোকান থেকেই তিনি গড়ে তুলেছেন সফলতার অনন্য উদাহরণ।
আজিজুল হক বাদল জানান, তার ব্যবসার শুরু হয়েছিল পুরাতন জুতা বিক্রির মাধ্যমে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নতুনভাবে জুতা সাজিয়ে ফুটপাতে বিক্রি শুরু করেন। প্রতিদিনই নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে জুতা বিক্রি করেন তিনি। শুধু তাই নয়, তার পূর্বপুরুষরাও একই স্থানে জুতার ব্যবসা করতেন।
অভাব-অনটনের মধ্যেও থেমে থাকেননি আজিজুল। ফুটপাতের এই ক্ষুদ্র ব্যবসা থেকেই তিনি সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। তার এক মেয়ে বিসিএস পাস করে সোনালী ব্যাংক-এ চাকরি করছেন। দুই ছেলের মধ্যে একজন মাস্টার্স শেষ করে মেডিসিন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং অন্যজন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত।
গর্বের সঙ্গে আজিজুল বলেন, ‘এই ছোট ব্যবসা করেই আমি আমার সন্তানদের মানুষ করতে পেরেছি। আমার চেষ্টা আর আমার স্ত্রীর সহযোগিতায় আজ তারা প্রতিষ্ঠিত।’
তিনি আরো বলেন, ফুটপাতের অনেক ব্যবসায়ী থাকলেও খুব কম মানুষই সন্তানদের উচ্চশিক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছেন। সেই দিক থেকে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন।
তবে সন্তানরা চাইলেও তিনি এই ব্যবসা ছাড়তে রাজি নন। আজিজুলের ভাষায়, ‘যে ব্যবসা আমাকে বাঁচতে শিখিয়েছে, সন্তানদের লেখাপড়ার সুযোগ করে দিয়েছে, সেই ব্যবসা আমি কখনো ছাড়তে পারব না। যতদিন বেঁচে থাকব, এই ব্যবসার সঙ্গেই থাকব।’
তিনি বলেন, সন্তানরা এখন উচ্চ পদে চাকরি করলেও বাবা হিসেবে ফুটপাতে জুতা বিক্রি করাকে তারা সম্মানের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কষ্ট পায়। তাই বারবার ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু আজিজুল বিশ্বাস করেন, অতীতকে ভুলে গেলে চলবে না।
ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযানে দোকান ভেঙে দেওয়া হলে তাদের জীবনে নেমে আসে অনিশ্চয়তা। তবুও জীবনসংগ্রাম থেমে থাকে না।
আজিজুল হক বাদলের জীবনগল্প প্রমাণ করে—পরিশ্রম, সততা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে ছোট্ট একটি ফুটপাতের ব্যবসাও হতে পারে সফলতার বড় উদাহরণ।