ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় অনুমতি ছাড়া গাছ থেকে লিচু পাড়ার প্রতিবাদ করার জের ধরে আজিজুর রহমান মোল্যা (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
গত বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আজিজুর রহমান ফুলবাড়িয়া গ্রামের গুপিনগর পাড়ার মৃত মান্নান মোল্লার ছেলে। তিনি ওই লিচু গাছের মালিক ছিলেন।
সোমবার (২৫ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ । এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় ফুলবাড়িয়া বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. রাজু মুন্সী (৩৫) উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চর বাংরাইল গ্রামের মৃত আব্দুস সালাম মুন্সীর ছেলে। তিনি বর্তমানে সোনাপুর ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে আজিজুর রহমানের বাড়ির গাছ থেকে পাশের সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামের দুই যুবক সাকিল মুন্সী ও তুষার মুন্সী অনুমতি ছাড়াই লিচু পেড়ে খায়। এ সময় আজিজুরের ছেলে আকরাম মোল্লা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে বিকেলে ফুলবাড়িয়া বাজারে আকরামকে একা পেয়ে সাকিল ও তার সহযোগীরা মারধর শুরু করে। ছেলের ওপর হামলার খবর পেয়ে আজিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করলে হামলাকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাকিল ও তুষারসহ বেশ কয়েকজন যুবক বাঁশ ও লাঠি দিয়ে আজিজুর রহমানকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। লাঠির আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের একটি ৩২ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, লাঠিসোঁটা হাতে একদল উত্তেজিত যুবক সাদা পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি পরা আজিজুর রহমানকে বেপরোয়াভাবে মারধর করছে। এ সময় তাকে দুবার মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখা যায়।
হামলাকারীদের রুখতে স্থানীয়রা চেষ্টা করলেও তারা ছিল বেপরোয়া। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, লিচু পাড়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। অফিস খোলার পর থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর ডিডি মহোদয়কে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হবে। যদি তিনি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে থাকেন, তাহলে আপাতত তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।