পিরোজপুরের নেছারাবাদে কাঠবোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনায় নিহত ট্রলারচালক কামাল বাহাদুরের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। চার কন্যা সন্তান ও স্ত্রীকে রেখে তার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর।
রবিবার (২৪ মে) সকালে নাজিরপুর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকায় প্রতিমন্ত্রী স্বশরীরে উপস্থিত হতে না পারলেও তাঁর নির্দেশনায় নেতারা নিহতের স্ত্রী ও সন্তানদের খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি মোবাইল ফোনে নিহত কামাল বাহাদুরের বৃদ্ধ পিতার সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
নিহত কামাল বাহাদুর (৩৮) নাজিরপুর উপজেলার দেউলবাড়ী দোবড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং আ. হালিম বাহাদুরের ছেলে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কামাল বাহাদুরের স্ত্রী মহিমা বেগম ও চার কন্যা সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে মাইশা আক্তার সাথী সপ্তম শ্রেণিতে, মেজ মেয়ে সামিয়া দ্বিতীয় শ্রেণিতে এবং সেজ মেয়ে ইভা প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। সবচেয়ে ছোট মেয়ে চাঁদনীর বয়স মাত্র ১৮ মাস।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, প্রতিমন্ত্রী ভবিষ্যতেও নিহতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তাদের আশা, এই সহায়তা শোকাহত পরিবারটিকে কিছুটা হলেও সাহস ও মানসিক শক্তি জোগাবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. শফিকুল ইসলাম ফরিদ, নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাসির উদ্দিন তালুকদার, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আজাহারুল ইসলাম টুটুল, সেলিম মিয়া, পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি জসিম বাহাদুরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) গভীর রাতে নেছারাবাদের বালিহারী খালের হাজী আব্দুর রহমানের বাড়ির সামনের ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় “ফিয়ানা-ফাতেমা” নামের একটি স্টিলবডির কাঠবোঝাই ট্রলার প্রবল স্রোতে ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা চালক কামাল বাহাদুরের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই নিহতের পরিবারের সহায়তায় এগিয়ে আসেন প্রতিমন্ত্রী।