ঈদুল আজহায় পশু কোরবানি করার পর চামড়া ছাড়ানো, মাংস ও হাড় কাটার জন্য কসাই অপরিহার্য। কিন্তু রাজধানীতে কোরবানির মৌসুমে পেশাদার কসাইয়ের সংকট দেখা দেয়। বিশেষ করে ঈদের দিন সকালে কসাই পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে আগেভাগেই কসাই ঠিক করে রাখতে হয় কোরবানিদাতাদের।
তবে সমস্যা হলো—কসাইদের কোনও নির্ধারিত দর নেই। এলাকা ও কসাইভেদে ভিন্ন ভিন্ন রেট নেওয়া হচ্ছে। কোথাও পশুর মূল্যের প্রতি হাজারে ১৫০ টাকা, কোথাও ২০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচ ও ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী।
বাড্ডার বাসিন্দা আতিকুর রহমান জানান, তিনি এখনও গরু না কিনলেও কসাই ঠিক করে ফেলেছেন। তার চুক্তি অনুযায়ী গরুর দামের প্রতি হাজারে ১৫০ টাকা দিতে হবে। গত বছরও একই দরে কসাই নিয়েছিলেন তিনি।
তিনি বলেন, কোরবানির সময় কসাই ঠিক করাই বড় ঝামেলা। নির্ধারিত কোনও মূল্য নেই। যে যার মতো দর হাঁকান। রাজধানীর কসাইরা বেশি নেন, বাইরে থেকে আসা কসাইরা তুলনামূলক কম নেন।
তিনি আরোও জানান, তার কসাইয়ের দল প্রতি বছর চুয়াডাঙ্গা থেকে আসে এবং কয়েক বছর ধরেই তাদের এলাকায় কাজ করছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কসাইদের দরেও রয়েছে বড় পার্থক্য। বাড্ডার আনন্দনগরে প্রতি হাজারে ১৫০ টাকা হলেও গুলশান, বনানী, বারিধারা, বসুন্ধরা ও ধানমন্ডিতে এই দর ২০০ টাকা পর্যন্ত। বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায়ও দর প্রায় ১৫০ টাকা।
অর্থাৎ, দেড় লাখ টাকার একটি গরু কোরবানি দিলে প্রতি হাজারে ২০০ টাকা হিসেবে কসাইয়ের খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। আর ১৫০ টাকা হলে খরচ হয় ২২ হাজার ৫০০ টাকা।
বনশ্রীর বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, বাসায় গরু কাটার লোক নেই, তাই কসাই লাগেই। কিন্তু কোরবানি, হাসিল আর কসাইয়ের বিল মিলিয়ে অনেকের ওপর বড় চাপ পড়ে। কসাইদের নির্ধারিত মূল্য থাকা উচিত।
একই এলাকার সেলিম আহমেদ বলেন, সমিতিভিত্তিক কোরবানির ক্ষেত্রে অনেক জায়গায় প্রতি হাজারের বদলে গরুপ্রতি দর নির্ধারণ করা হয়। সেখানে একটি গরু কাটতে ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।
অন্যদিকে কসাইদের দাবি, বছরের অন্য সময় তাদের কাজ কম থাকে। তাই কোরবানির সময়ের আয়ই তাদের বড় ভরসা।
বনশ্রীর এক পেশাদার কসাই মোস্তফা বলেন, কোরবানির সময়ই আমাদের মূল আয়। এক মাসের বেশি সময় বসে থাকতে হয়। এই সময়ে আয় না করলে চলবে কীভাবে?
তিনি জানান, এবার তিনি সাতটি গরুর কাজের চুক্তি পেয়েছেন। পাঁচজনের দল নিয়ে কাজ করবেন এবং শ্রমিকদের পারিশ্রমিক দেওয়ার পরও জনপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় থাকে।
আরেক কসাই ইসাহাকও মনে করেন, সরকার নির্ধারিত দর ঠিক করে দিলে ভালো হবে। এতে কম-বেশির অভিযোগ থাকবে না এবং সবাই একই নিয়মে কাজ করতে পারবেন।
রাজধানীবাসীর দাবি, গরুর হাটে যেমন হাসিলের নির্ধারিত হার আছে, তেমনি কোরবানির পশু কাটার ক্ষেত্রেও কসাইদের জন্য একটি নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ করা উচিত। এতে কোরবানিদাতা ও কসাই—উভয় পক্ষই উপকৃত হবেন।