মামলা, জরিমানা বা নীরব অঞ্চল ঘোষণা কোনো কিছুতেই হর্নমুক্ত হচ্ছে না রাজধানী। এই শব্দদূষণে অতিষ্ঠ জনজীবন; ক্লান্ত নগর প্রশাসন। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা দরকার, যাতে চালকদের আচরণ ট্র্যাক করা যাবে। সঙ্গে থাকতে হবে পুরস্কার ও তিরস্কারের ব্যবস্থাও।
সড়কে ব্যস্ততা ও যানজটের চেয়েও ভয়ানক হয়ে উঠছে কানফাটানো হর্ন। এটি বন্ধে পুলিশি চেষ্টা বা জনসচেতনতা কাজে আসছে না কিছুই।
পথচারীরা বলেন, হর্ন আসলে যেখানে দরকার সেখানে অবশ্যই দিতে হবে। আমরা নিজেরাও হর্নকে এভয়েড করি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনি ব্যবস্থাও নিচ্ছে প্রশাসন। নিয়ম মানাতে নিয়মিত মামলা হচ্ছে বলেও জানালেন ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক।
ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন,আমি নিজে ফোন করেছিলাম। যেহেতু আমরা এখানে নীরব এলাকা ঘোষণা করলাম, নীরব তো আর হচ্ছে না; তাহলে আপনি ব্যবস্থা কী নিয়েছেন? তারা আমাকে রিপোর্ট দিয়েছে, ২৫৮টি মামলা তারা করেছে। মামলা পর্যায়ক্রমে করবে এবং কিছুটা হলেও আমি মনে করি জরিমানা হলে (হর্ন বাজানো) কমে আসবে।
রাজধানীর সচিবালয় এলাকা, আগারগাঁও, বিমানবন্দর ও গুলশান-বনানীকে এরই মধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে 'নীরব অঞ্চল'। তারপরও সেখানে বন্ধ হয়নি হর্ন। মামলা-জরিমানায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে শুধু গুলশানে।
গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওমর সাদাত বলেন,বাংলাদেশের মতো দেশে আপনি হর্ন বন্ধ করে দেন। যেকোনো গাড়ি হর্নসহ বিক্রি হবে না। সিটি কর্পোরেশনকে তদবির করে গুলশানকে একটি নীরব এলাকা ঘোষণা করিয়েছি। অর্থাৎ, এখানে হর্ন বাজানো যাবে না; হর্ন বাজালে ফাইন করতে হবে। এই জিনিসটার ফলে গুলশানে হর্নটা অনেকাংশে কমে এসেছে। কিন্তু এখনো আমরা যে পর্যায়ে চাই, সে পর্যায়ে যাই নাই।
এ অবস্থায় শব্দ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার কথা সামনে আনছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এমন একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা দরকার যাতে চালকদের আচরণ ট্র্যাক করা যাবে।
নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মোহাম্মদ খান বলেন,এআই (AI) এর ব্যবহার হয়েছে অনেক রাস্তায়, যার ফলে মানুষ ট্রাফিক আইন মানছে। তাহলে কারা উচ্চশব্দে হর্ন বাজাচ্ছেন, সেটা ডিটেকশনের একটা পদ্ধতি দরকার। আমরা প্রণোদনা এবং প্যানালাইজেশন এই দুটো যদি করতে পারি, দেখা যাবে ধীরে ধীরে এটা কমবে।
আইন ও সচেতনতা রাজধানীকে শব্দদূষণ মুক্ত করতে পারছে না কিছুই। সংকট কাটাতে প্রযুক্তি ও শাস্তির পাশাপাশি চালকদের অভ্যাস বদলের ওপরও জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।