দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও বিপণনে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে রাজধানীর খামারবাড়িতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা-২০২৬। দেশি ফলের বৈচিত্র্য, রঙ ও সুগন্ধে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।
বৃহস্পতিবার খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) প্রাঙ্গণে মেলার উদ্বোধন করা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মেলা চলবে আগামী শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে মেলা।
এবারের মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’। আয়োজকদের মতে, দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমানো, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সম্ভাবনা তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
মেলায় দেশি-বিদেশি শতাধিক জাতের ফলের সমাহার বসেছে। আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারসসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলের পাশাপাশি অপ্রচলিত ও পাহাড়ি ফলও স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে। দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে প্রায় ৫ কেজি ওজনের ‘ব্রুনাই কিং’ আম।
ফলের পাশাপাশি মধু, মাশরুম ও অন্যান্য কৃষিপণ্যও বিক্রি হচ্ছে মেলায়। নিরাপদ ফল কেনার পাশাপাশি দর্শনার্থীরা ফল চাষ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কেও তথ্য জানতে পারছেন।
আয়োজকরা জানান, কৃষক, উদ্যোক্তা, গবেষক এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য মেলাটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা ফলভিত্তিক কৃষি অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে সহায়তা করবে।
দেশীয় ফলের প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।