৯ দাবি আদায়ে এমপিওভুক্ত ৭৫টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের মানববন্ধন ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় শিক্ষক-কর্মচারীরা ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে-বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় বিশেষ শিক্ষা কারিকুলাম তৈরি। ২০২৫ সালের বর্ধিত বিশেষ সুবিধা ১০%-১৫% প্রদান। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত বিদ্যালয়সমূহের জন্য ৬০% বর্ধিত উৎসব ভাতা প্রদান। বিদ্যালয়সমূহের জন্য ৭.৫% বাড়ি ভাড়া ও ১৫% বাড়ি ভাড়া প্রদান। বিএসএড পাস করা শিক্ষকদের প্রাপ্য ন্যায্য বেতন ভাতা প্রদান। পেনশন সুবিধা ও গ্র্যাচুইটি, পদোন্নতি, টাইম স্কেল, বেতন বৈষম্য দূরীকরণসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান।
সিপিএফ-এর ওপর সরকারি নিয়মে লাভ প্রদান। বদলির সুবিধা প্রদান ও এমপিওভুক্ত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়সমূহের জাতীয়করণ করতে হবে। এসময় শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, ঢাকার মালিবাগের কল্যাণী ইনক্লুসিভ স্কুলের প্রধান শিক্ষক জেবুন্নাহার বেগম, গেন্ডারিয়া বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রাজ্জাক, রমনা স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মো. ওমর ফারুক, সুইড ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষক মিথিলা, খিলগাঁও স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মো. সোহেল রানা প্রমুখ।
মানববন্ধনে শিক্ষক-কর্মচারীরা বলেন, আমরা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ও জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত এমপিওভুক্ত ৭৫টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা বছরের পর বছর সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু আমরা বারবার আমাদের দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়ে আসলেও তারা কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না।
ফলে আমরা নিরুপায় হয়ে মানববন্ধন ও র্যালি করতে বাধ্য হয়েছি। আমরা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক, ডাউন সিন্ড্রোম ও সেরিব্রাল পালসি। এ ধরনের শিক্ষার্থী ৭৫টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষার্থীদের সেবা দিয়ে আসছি উল্লেখ করে বক্তারা আরো বলেন, এসকল শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নে প্রায় ১ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী প্রশিক্ষণ ও সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। শিক্ষকগণ উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রায় ১৫০-২০০ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পুনর্বাসিত করেছেন।
এ ছাড়াও শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অনেক শিক্ষার্থী স্পেশাল অলিম্পিকস এ অংশগ্রহণ করে স্বর্ণপদক লাভ করে দেশের সম্মান বয়ে এনেছেন। কিন্তু আজ শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। ফলে আমাদের দাবি মেনে নিয়ে আমাদের স্বাচ্ছন্দ্যে করার সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি।