মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (২০ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর মধ্য দিয়ে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ২০১৫ সালে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে এখন। সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর জন্য আগামী ১৭ জুন দিন ধার্য হয়েছে।
মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও এএসআই জসিম উদ্দিন। অন্যদিকে সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার এহসান উল্লাহ পলাতক রয়েছেন।
নিহতরা হলেন- আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
এদিন গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ পড়ে শোনান। পরে তাদের কাছে দোষ স্বীকারের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। এরপর আদালত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যরা। আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ১৪ মে গ্রেপ্তার দুই আসামির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবুল হাসান। তিনি দাবি করেন, তার মক্কেলরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে তাদের আসামি করা হয়েছে। একইভাবে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনও অব্যাহতির আবেদন জানান।
অন্যদিকে প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম বলেন, মামলায় পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আজকের দিন ধার্য করেছিলেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা ছিলেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। তাদের সরিয়ে দিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে পরিকল্পনা করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎকালীন এসপি এহসান উল্লাহকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মিথ্যা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে উজিরপুর থানা পুলিশ। এরপর আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের পাশে ক্রসফায়ারের নাটক সাজিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।