পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। ভারতের কৌশলগত নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গের ‘শিলিগুড়ি করিডোর’বা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত সরু ভূখণ্ডের ১২০ একর জমি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছে রাজ্য সরকার।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্য সচিবের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং সেনা ও পরিবহন ব্যবস্থার সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। মূলত দেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার সঙ্গে আপস করা হবে না বলে আগেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্য সচিবের জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এক বছর ধরে টালবাহানা করলেও নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য’ ওই অঞ্চলের সাতটি সড়ক ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়া ও ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেডের হাতে তুলে দিয়েছে।
এতদিন পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পূর্ত দপ্তরের হাতেই এই সড়কগুলো দেখভালের দায়িত্ব ছিল। এই সাতটি সড়কের মধ্যে পাঁচটিই সরাসরি শিলিগুড়ি করিডোরের মধ্যে দিয়ে গেছে।
এখন এই হস্তান্তরের ফলে রাস্তাগুলোর সম্প্রসারণ, মেরামতির কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আর সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে রাস্তার সম্প্রসারণ হলে ওই অঞ্চলে সড়কপথে সামরিক অভিযান অনেক সহজ এবং দ্রুত হবে।
ভৌগোলিক দিক থেকে চিকেন্স নেকের অবস্থান ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনটি আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই ভূখণ্ডটি সবচেয়ে সরু যেখানে – তার দৈর্ঘ্য মাত্র ২২ কিলোমিটার। এই ‘চিকেন্স নেক’ নেপাল, বাংলাদেশ ও ভূটান সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত।
এই সরু ভূখণ্ডটি উত্তর-পূর্বের সেভেন সিস্টারস বা সাতটি রাজ্যের সঙ্গে বাকি দেশকে জুড়ে রেখেছে। এই অঞ্চলটির লাগোয়া সিকিমের উত্তরে রয়েছে আরেক প্রতিবেশী দেশ চীন।
বিশেষজ্ঞরা জাতীয় সুরক্ষার দিক থেকেও এই পদক্ষেপকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।
২০১৭ সালে ভূটান-চীন-ভারত তিন দেশের সীমানা যেখানে মিশেছে, সেই ডোকলামে সামরিক সংকটের পর থেকেই এই অঞ্চলের রাস্তা সম্প্রসারণ করা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে চিন্তা-ভাবনা চলছিল।
সূত্র: বিবিসি