দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে আফগানিস্তানের ৪৭ লাখ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

দীর্ঘ যুদ্ধ, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং চরম দারিদ্র্যের চাপ—সব মিলিয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আফগানিস্তান।

2026-05-19T12:46:12+00:00
2026-05-19T12:46:12+00:00
  রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬,
১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
 
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ক্ষুধার যন্ত্রণায় সন্তান বিক্রি!
দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে আফগানিস্তানের ৪৭ লাখ মানুষ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘ যুদ্ধ, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং চরম দারিদ্র্যের চাপ—সব মিলিয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আফগানিস্তান। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যে, অনেক পরিবার এখন দুমুঠো খাবার কিংবা সন্তানের চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে নিজের সন্তানকেই বিক্রি করে দেওয়ার মতো নির্মম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে।

তালেবান ক্ষমতায় আসার পর আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যাপকভাবে কমে যায়। এর ফলে দেশটির অর্থনীতি কার্যত ভেঙে পড়ে। লাখ লাখ মানুষ চাকরি হারায়, ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। বর্তমানে দেশটির বহু পরিবার প্রতিদিন কী খাবে, সেই চিন্তাতেই দিন পার করছে।

আফগানিস্তানের ঘোর প্রদেশের রাজধানী চাগচারানের একটি শ্রমবাজারে প্রতিদিন ভোরে শত শত মানুষ কাজের আশায় জড়ো হন। কিন্তু অধিকাংশই কাজ না পেয়েই খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। দিনমজুর জুমা খান জানান, গত কয়েক সপ্তাহে তিনি হাতে গোনা কয়েকদিন কাজ পেয়েছেন। সেই সামান্য আয় দিয়ে পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সন্তানরা না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে একজন বাবার অসহায়ত্ব কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, সেটিই যেন এখন আফগানিস্তানের বাস্তবতা।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজনই বর্তমানে মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না। দেশটির প্রায় ৪৭ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের একেবারে দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। খাদ্য সংকট, বেকারত্ব, খরা এবং স্বাস্থ্যসেবার সংকট মিলিয়ে পরিস্থিতি প্রতিদিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

চাগচারানের আরেক বাসিন্দা আব্দুল রশিদ আজিমি জানান, অভাবের কারণে তিনি নিজের যমজ মেয়েদের বিক্রি করার কথাও ভাবছেন। তার ভাষায়, কাজ না পেয়ে যখন ঘরে ফিরি, সন্তানরা খাবার চায়। কিন্তু তাদের মুখে তুলে দেওয়ার মতো কিছুই থাকে না। একজন বাবার জন্য এর চেয়ে কষ্টের আর কিছু হতে পারে না।

শুধু খাবারের জন্য নয়, চিকিৎসার খরচ জোগাতেও সন্তান বিক্রির মতো ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দা সাঈদ আহমদ তার অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে বাধ্য হয়ে মেয়েকে এক আত্মীয়ের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানান। মেয়েটির জরুরি অপারেশন প্রয়োজন ছিল, কিন্তু অর্থের অভাবে তিনি অন্য কোনো পথ খুঁজে পাননি।

আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। কয়েক বছর আগেও লাখ লাখ পরিবার নিয়মিত ত্রাণ সহায়তা পেত। কিন্তু বর্তমানে বিদেশি সহায়তা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় মানবিক সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি খরা ও খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার সমস্যা।

মানবিক সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে শিশুরা। বিভিন্ন হাসপাতালের শিশু ও নবজাতক ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। অপুষ্টি, ডায়রিয়া ও নানা রোগে আক্রান্ত শিশুদের অনেকেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছে না। চিকিৎসক ও নার্সরা বলছেন, প্রতিদিন শিশু মৃত্যুর ঘটনা এখন প্রায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে তালেবান সরকার এই সংকটের জন্য দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও বিদেশি হস্তক্ষেপকে দায়ী করছে। তবে আন্তর্জাতিক মহলের দাবি, নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন কট্টর নীতির কারণেও অনেক দেশ ও দাতা সংস্থা আফগানিস্তানের প্রতি সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কার্যকর আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ছাড়া আফগানিস্তানের এই মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। আর সেই সংকটের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে—বিশেষ করে ক্ষুধার সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করা অসহায় শিশুদের।


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: