মুশফিকের রেকর্ড গড়া ১৩৭ রানের ওপর ভর করে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। ফলে প্রথম ইনিংসের ৪৬ রানসহ পাকিস্তানের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ৪৩৭ রানের পাহাড়সম রান। তাই পাকিস্তানকে জিততে হলে রেকর্ড গড়তে হবে। টেস্টে সর্বোচ্চ ৪১৮ রানের লক্ষ্যে জয়ের বিশ্বরেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের।
সিলেটের উইকেটে চতুর্থ ইনিংসে ৪৩৭ রান তাড়া করে জেতা যেকোনো দলের জন্যই প্রায় অসম্ভব এক চ্যালেঞ্জ। বল হাতে স্পিনাররা চেনা ছন্দ দেখাতে পারলে সিলেটে ঐতিহাসিক জয়ের সুবাস পেতে যাচ্ছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
চা-বিরতির আগে ৯০ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিক বিরতি থেকে ফিরেই ক্যারিয়ারের ১৪তম টেস্ট শতক পূর্ণ করেন। এই সেঞ্চুরির পথেই মুশফিক গড়েছেন জোড়া ইতিহাস। প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে ১৬ হাজার রানের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
এছাড়া এই শতকের মাধ্যমে মুমিনুল হককে (১৩টি সেঞ্চুরি) টপকে বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে এককভাবে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক এখন কেবলই মুশফিক। শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে ২৩৩ বলে ১২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৩৭ রানের এক রাজকীয় ইনিংস খেলেন তিনি।
আজ তৃতীয় দিনের শুরুটা অবশ্য ভালো করতে পারেনি টাইগাররা। সকালের সেশনেই খুররম শাহজাদের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (১৫)। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার। তবে শান্তর বিদায়ের পর প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন মুশফিক। দ্বিতীয় ইনিংসে লিটন খেলেন ৯২ বলে ৬৯ রানের ইনিংস।
লিটন ও মিরাজের (১৯) বিদায়ের পর তাইজুল ইসলামকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন মুশফিক। সপ্তম উইকেটে এই দুজনে যোগ করেন ৭৭ রান। তাইজুল ৫১ বলে ২২ রান করে সাজিদ খানের বলে ক্যাচ আউট হন। এরপর দ্রুত রান তুলতে গিয়ে তাসকিন আহমেদ (৬) ও শরীফুল ইসলাম দ্রুত সাজঘরে ফিরলে ৩৯০ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৭৮
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২৩২
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৩৯০
পাকিস্তান ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৪৩৭) ১ ওভারে ০/০