সাতকানিয়ার কেরানীহাটে কাঁচাবাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মাত্র এক থেকে দেড় মাসের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে শতকের ঘরে পৌঁছেছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ডিম, পেঁয়াজ ও আদার দামও। ফলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ, শ্রমজীবী পরিবার ও মধ্যবিত্তরা। বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় সবজি কিনতেই এখন অনেকের দৈনিক বাজেট ভেঙে যাচ্ছে।
কেরানীহাট কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগে ৫০০ টাকায় দুই-তিন দিনের বাজার করা যেত। এখন কয়েক ধরনের সবজি কিনতেই টাকা শেষ হয়ে যায়। বাচ্চাদের জন্য মাছ-মাংস কিনবেন নাকি সবজি কিনবেন— সেই দুশ্চিন্তায় পড়তে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।
বেসরকারি চাকরিজীবী আবু ছৈয়দ বলেন, “বেতন তো বাড়েনি, কিন্তু প্রতিদিন বাজারের দাম বাড়ছে। ডিম, সবজি, পেঁয়াজ— সবকিছুর দাম একসঙ্গে বাড়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে। বাজারে যেন কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।”
গতকাল শনিবার দুপুরে কেরানীহাট কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং পটল ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। এছাড়া মুলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ৯০ টাকা ও ধনেপাতা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে প্রতি আঁটি লাল শাক ২০ থেকে ৩০ টাকা, ডাটা ৪০ টাকা এবং প্রতি হালি কাঁচকলা ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ৩০ টাকায়। আদার দামও বেড়ে প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায় পৌঁছেছে। গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে অন্তত ১০ টাকা।
ক্রেতাদের অভিযোগ, কৃষকদের কাছ থেকে তুলনামূলক কম দামে সবজি কিনে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
তবে বিক্রেতাদের দাবি, টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় সবজির উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ কমেছে। ফলে বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
সবজির পাশাপাশি ডিমের বাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। কয়েক মাস আগেও খামার পর্যায়ে প্রতি ডিম বিক্রি হতো সাড়ে ৭ থেকে ৮ টাকায়। বর্তমানে সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত। খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। হাঁসের ডিমও প্রতি ডজন ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।