প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও বহু প্রাণের বিনিময়ে দেশের মানুষের ওপর চেপে বসা স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করা হয়েছে। গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা এবং মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে পরিচালিত সেই আন্দোলনে দেশের জনগণ সফল হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষেরহাট এলাকায় বিশ্বখাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন দেশের প্রধান কাজ হচ্ছে রাষ্ট্র পুনর্গঠন এবং উন্নয়নকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে এবং দুর্নীতির কারণে অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রশাসনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে এর দক্ষতা নষ্ট করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ধ্বংস করে বিদেশমুখী চিকিৎসা নির্ভরতা তৈরি করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, উন্নয়নের নামে জনগণের অর্থ লুট করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি; শহরে ফ্লাইওভার নির্মাণ হলেও অনেক সড়ক এখনো ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে।
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের বালিশ কেনার প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, “একটি বালিশ ৮০ হাজার টাকায় কেনা হয়েছিল। জনগণের এই অর্থই বিদেশে পাচার করা হয়েছে।”
স্থানীয় সংসদ সদস্যের টেকনিক্যাল কলেজ স্থাপনের দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত এক যুগে উন্নয়ন হয়ে থাকলে এখনো কেন এ অঞ্চলে একটি টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এমন প্রতিষ্ঠান হলে স্থানীয় যুবকদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে এবং দেশ-বিদেশে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
বিশ্বখাল পুনঃখনন কার্যক্রমের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এলাকার মানুষ ও কৃষকরা ভোগান্তিতে ছিলেন। খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে কৃষি ও স্থানীয় জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি আরও জানান, সরকার পর্যায়ক্রমে প্রতিটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেবে। পাশাপাশি কৃষকদের সার ও বীজ কেনায় সহায়তার জন্য কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। নারীদের স্বাবলম্বী করা এবং তরুণদের প্রশিক্ষিত ও শিক্ষিত করে তোলার উদ্যোগও অব্যাহত থাকবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, সমাজকল্যাণ ও মহিলা-শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ বিএনপি ও স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।