নীরব রাজনৈতিক দল, সরব পেশাজীবী সংগঠন

সোহাগ রাসিফ

জাতীয়

সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দৈনিক বুলেটিনে জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১২ শিশুসহ গত

2026-05-16T11:08:21+00:00
2026-05-16T11:18:44+00:00
  রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২২ ভাদ্র ১৪৩৩
 
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
হামে সাড়ে ৪শ শিশুর মৃত্যু
নীরব রাজনৈতিক দল, সরব পেশাজীবী সংগঠন
টিকা ব্যবস্থাপনায় গাফিলতিতে ড. ইউনূসের বিচার দাবি
সোহাগ রাসিফ
শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ১১:০৮ এএম  আপডেট: ১৬.০৫.২০২৬ ১১:১৮ এএম
সংগৃহীত ছবি
সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দৈনিক বুলেটিনে  জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১২ শিশুসহ গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল ১৫ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫১ জনে। 

সরকারি হিসাবের বাইরেও অসংখ্য শিশু মারা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এই বিপুল সংখ্যক শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় অভিযোগের তীর অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের দিকে। টিকা ব্যবস্থাপনায় তাদের চরম অবহেলা ও গাফিলতিকে দায়ী করে তাদের বিচারের দাবি তুলেছে আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠন।

হামে আক্রান্ত হয়ে প্রায় অর্ধসহস্রাধিক শিশুমৃত্যুর ঘটনা ও অন্তর্বর্তী সরকারের দায় নিয়ে মুখ খুলছে না বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিএনপি ও প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী। 

বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোও যখন নীরব, তখন রাজপথে মানববন্ধনসহ নানাভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে সাধারণ আইনজীবী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, হিউম্যানিটারিয়ান ইউনিটি উইথ মোরালিটি (এইচইউএম), মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), জাতীয় শিশু কিশোর সংগঠন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরসহ নানা সংগঠন। হামে শিশু মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

আন্দোলনরত সংগঠনগুলো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হামে মৃত শিশুদের পরিবারকে ড. ইউনূস ও নূরজাহান বেগমের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেওয়া এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে টিকা সংগ্রহে ব্যর্থতার তদন্ত দ্রুত শেষ করতে হবে। এছাড়া স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান না করা হলে ভবিষতেও শিশুদের জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে তারা মনে করেন।

সম্প্রতি রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) অভিযোগ করে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সীমাহীন অবহেলা ও টিকা কেনায় গাফিলতির কারণে দেশে শিশুমৃত্যু ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সিপিবি নেতারা এই মৃত্যুকে ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

একই দাবিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেছেন ‘সাধারণ আইনজীবীবৃন্দ’ এর ব্যানারে একদল আইনজীবী। তাদের অভিযোগ, ইউনিসেফ থেকে সতর্ক করার পরও টিকা কেনার পূর্বের ব্যবস্থা পরিবর্তন করে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে যাওয়ার হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে। 

আইনজীবী শামিম আল সাইফুল সোহাগ বলেন, স্বাস্থ্য খাতে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও নূরজাহান বেগমকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা করা হয়েছিল। টিকা নিয়ে পূর্বের চুক্তি বাতিল করলেও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এসব কারনে ড. ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান এই দায় এড়াতে পারেন না। তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল জানান, উন্নতমানের টিকা নিশ্চিত করার চেয়ে সর্বনিম্ন মূল্যে টিকা কিনে তথাকথিত ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জনের চেষ্টার ফলেই শিশুদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। শিশুদের এই মৃত্যুকে সরকার ‘ট্রানজেকশনাল ফল্ট’ হিসেবে দেখছে বলে অভিযোগ এনে তীব্র নিন্দা জানান।

শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় আইসিইউ সুবিধার অভাব এবং বছরের পর বছর টিকা ব্যবস্থাপনায় যুক্ত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেছে জাতীয় শিশু কিশোর সংগঠন ‘কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর’। খেলাঘর নেতারা মনে করেন, একটি শিশুর লাশ যখন বাবার কাঁধে ওঠে, তখন তা কেবল একটি পরিবারের শোক নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের দুরবস্থারই প্রতিফলন। ফুটপাত থেকে অট্টালিকা, সব শিশুর সমান স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

যে কারনে ড. ইউনূসকে দায় দিচ্ছে : টিকা ব্যবস্থাপনায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সরকারের গাফিলতি ও তার নানা হটকারী সিদ্ধান্তের বিষয়ে অভিযোগ এনেছেন আন্দেলনকারী সংগঠনগুলো।  ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম ইউনিসেফ থেকে প্রাপ্ত সতর্কতা বারবার উপেক্ষা করে টিকা কেনার প্রচলিত ও নিরাপদ ব্যবস্থা পরিবর্তন করেছেন। 

আইনজীবীদের অভিযোগ অনুযায়ী, উন্নতমানের টিকা নিশ্চিত করার পরিবর্তে তারা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সর্বনিম্ন মূল্যে টিকা কেনার হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তারা মনে করেন, শিশুদের জীবন রক্ষার চেয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘ব্যবসায়িক সাফল্য’ ও ‘আর্থিক সাশ্রয়’ অর্জনই ছিল মূল লক্ষ্য।

২০২৪ সালের পর দেশের টিকা সংগ্রহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে। অন্তর্বর্তী সরকার পূর্বের কার্যকর টিকা সরবরাহ চুক্তিগুলো বাতিল করলেও তার বিপরীতে কোনো সময়োপযোগী বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। 

‘হিউম্যানিটারিয়ান ইউনিটি উইথ মোরালিটি (এইচইউএম)’ নামক একটি সংগঠনের মানববন্ধনে জানানো হয়, ২০২৫ সালে টিকা পাওয়ার যোগ্য শিশুদের মধ্যে মাত্র ৫৯ শতাংশ হামের টিকা পেয়েছে। 

এই তথ্য প্রথমে সরকারি ওয়েবসাইটে থাকলেও পরে তা রহস্যজনকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও তারা এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনেন। সংগঠনটির আহ্বায়ক হাসান আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন উচ্চ টিকাদান হার নিয়ে গর্ব করলেও বর্তমান অব্যবস্থাপনায় সেই গৌরব ধূলিসাৎ হয়েছে। 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞারা জানান, অবিলম্বে হামকান্ডে মৃত্যুর মিছিল থামাতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। দেশের জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এবং শিশুদের জীবন বাঁচাতে এই মুহূর্তে দেশব্যাপী জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করা সময়ের দাবি।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: