বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান শিক্ষক আন্দোলন ও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মামুন অর রশিদ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে তাঁকে চার বছরের জন্য এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটি জারি করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব সুলতান আহমেদ।
অধ্যাপক মামুন অর রশিদ এর আগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে তৎকালীন উপাচার্য শুচিতা শরমিনের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে অপসারণ করা হয়। গত বছরের ১৩ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শুচিতা শরমিন, সহ-উপাচার্য গোলাম রব্বানী এবং কোষাধ্যক্ষ মামুন অর রশিদকে অব্যাহতি দেয়।
পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে প্রথমে অন্তর্বর্তী এবং পরে পূর্ণকালীন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু পদোন্নতি নিয়ে অনিয়ম ও টালবাহানার অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন শিক্ষকেরা। গত সোমবার থেকে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। একই সঙ্গে তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে অপসারণের দাবিও জানান তাঁরা। এতে টানা চার দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার দুপুরে উপাচার্য তৌফিক আলম প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন দপ্তরের তালা ভেঙে কার্যক্রম চালুর চেষ্টা করেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে ফিরলেও স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হয়নি। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
আন্দোলনরত কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, নতুন উপাচার্য নিয়োগের খবর তাঁরা পেয়েছেন, তবে এতে তাঁদের আন্দোলনে কোনো পরিবর্তন আসবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে সাবেক উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলমের প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, নতুন উপাচার্য মামুন অর রশিদ কবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।