কাপ্তাই লেক থেকে ভেসে আসা বিপুল পরিমাণ কচুরিপানায় রাঙামাটির কাপ্তাই জেটিঘাট কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। জেটিঘাটজুড়ে কচুরিপানার স্তূপ জমে থাকায় লঞ্চ ও ইঞ্জিনচালিত বোটের চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা। এতে যাত্রী ও নৌযান চালকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অভ্যন্তরীণ নৌঘাটের বড় অংশজুড়ে কচুরিপানা জমে থাকায় অনেক নৌযান ঘাটে ভিড়তে পারছে না। আবার কিছু নৌযানকে ঘাট ছাড়তেও অতিরিক্ত সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হচ্ছে। একবার পরিষ্কার করার পরও অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন করে কচুরিপানা এসে জমা হচ্ছে।
লঞ্চঘাটের পরিচালক শীতল কুমার দাশ জানান, বর্তমানে কাপ্তাই জেটিঘাটে নৌযান চলাচলের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কচুরিপানা। স্রোতের কারণে ঘাট এলাকায় ক্রমাগত কচুরিপানা জমা হচ্ছে, ফলে নৌযান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বোট চালকদের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুম শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ইঞ্জিন বোট চালক শাহাদাত হোসেন বলেন, কাপ্তাই জেটিঘাটে সাধারণত কচুরিপানা জন্মায় না। বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি, বরকল ও নানিয়ারচর এলাকার লেক থেকে স্রোতের টানে এসব কচুরিপানা ভেসে আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় কর্ণফুলী নদীতে বিপুল পরিমাণ পানি ছাড়া হয়। সেই পানির প্রবল স্রোতেই উজান এলাকার কচুরিপানা জেটিঘাটে এসে আটকে যাচ্ছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক কর্মকর্তা জানান, নিয়মিত পরিষ্কার কার্যক্রম চালানো হলেও উজান থেকে নতুন করে কচুরিপানা চলে আসায় স্থায়ী সমাধান মিলছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি নিয়ন্ত্রণ করা বেশ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নৌযান চালকদের দাবি, কাপ্তাই লেকভিত্তিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত আধুনিক ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। না হলে ভবিষ্যতে নৌচলাচলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।