ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের শাহজাহানপুরের বাসভবনে গিয়েছিলাম দৈনিক ভোরের ডাকের জন্য একটি সাক্ষাৎকার নিতে। সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার ফাঁকে তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার ভাবনা কী? এক কথায় দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের তুলনা শুধুই মুক্তিযুদ্ধ। গণআন্দোলন বা গণঅভ্যুত্থান বারবার হয়, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ একবারই হয়েছিল। আর কখনো হবে না। মুক্তিযুদ্বের মধ্য দিয়ে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, তা আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন।
একটি যৌক্তিক কারণে সেই সময় তার কাছে প্রশ্নটি করেছিলাম আমি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একটি অশুভ কালো শক্তি নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করার অপচেষ্টা করেছিল। অনেকেই মুক্তিযুদ্ধ আর জুলাই আন্দোলনকে এক কাতারে নিয়ে আসার জন্য আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। মূলত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ভুলিয়ে দিতে তারা নানাভাবে চেষ্টা করেছে। যদিও দলগতভাবে বিএনপি এর প্রতিবাদে সরব ছিল। সঙ্গে সরব ছিল জাতীয় পার্টি, সিপিবিসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব ছিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লাখো কোটি জনতা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারে বিএনপি যখন দলগতভাবে মুক্তিযুদ্ধকে জোরালোভাবে সামনে নিয়ে আসে, তখন থেকে পাল্টে যেতে থাকে দৃশ্যপট। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিটি নির্বাচনী জনসভায় মুক্তিযুদ্ধে কার কী অবদান তা জোরালোভাবে তুলে ধরেন। ফলে যারা বিভিন্নভাবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রচারণার অপচেষ্টা চালাচ্ছিল তা ধীরে ধীরে স্তমিত হতে শুরু করে।
৪৭ থেকে ধারাবাহিক সংগ্রামের চূড়ান্ত রূপ ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ : ৪৭ সালের দেশভাগের পর দীর্ঘ ২৩ বছরের ধারাবাহিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতিই হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। দেশভাগের পরপরই পাকিস্তান সরকার উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে বাঙালি জাতি তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রক্তের বিনিময়ে বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি গড়ে দেয়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়ী হলেও পাকিস্তানি শাসকরা তা মেনে নেয়নি। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি বাঙালিদের ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ‘ছয় দফা’ দাবি উত্থাপন করেন। এটি পাকিস্তানি শোষকদের কাছে ছিল স্বাধীনতার সমতুল্য।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য করার মাধ্যমে ছাত্র-জনতা এক বিশাল গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে, যা আইয়ুব খানের শাসনের পতন ঘটায়। ৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি শুরু করে। এটিই ছিল চূড়ান্ত সংঘাতের প্রারম্ভ। পরে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু যখন বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ তখনই স্বাধীনতার বার্তা স্পষ্ট হয়ে যায়। ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার পর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। কর্নেল এম. এ. জি. ওসমানী প্রধান সেনাপতি হিসেবে এই যুদ্ধ পরিচালনা করেন। প্রতিটি সেক্টরে একজন কমান্ডার, নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা ও সাব-সেক্টর ছিল, যা গেরিলা আক্রমণ ও পাকবাহিনীকে পর্যুদস্ত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে ।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী নদী পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠন করা হয় ১নং সেক্টর। এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। এখানে উল্লেখ্য যে, মেজর জিয়াউর রহমান প্রথমে নিজের নামে ও পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, একজন সেনা অফিসারের কণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা দেশের আপামর জনসাধারণকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রবলভাবে অনুপ্রাণিত করে। এছাড়া ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম, মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর এটিএম হায়দার, মেজর কেএম শফিউল্লাহ, মেজর এএনএম নূরুজ্জামান, মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত (সি আর দত্ত), ক্যাপ্টেন এ রব মেজর মীর শওকত, উইং কমান্ডার এম কে বাশার, মেজর নাজমুল হক, মেজর কাজী নুরুজ্জামান, মেজর আবু ওসমান চৌধুরী, মেজর এম এ মঞ্জুর, মেজর এম এ জলিল, মেজর জয়নাল আবেদীন, মেজর আবু তাহের, স্কোয়াড্রন লিডার হামিদুল্লাহ খান বিভিন্ন সেক্টর কমান্ডরের দায়িত্ব নিয়ে নয় মাসব্যাপী যুদ্ধ পরিচালনা করেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে চলা নয় মাসব্যাপী এই যুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়। দুই লাখেরও বেশি মা বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নেয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও এদেশীয় তাদের দোসররা।
মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ : ১৯৭১ সালে ৩ ডিসেম্বর থেকে সরাসরি যুদ্ধ শুরু করে মিত্রবাহিনী (ভারতীয় সেনা ও মুক্তিবাহিনী) মাত্র ১৩ দিনে যৌথ অভিযানে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে। এর আগে ভারত নয় মাস মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সরবরাহ এবং এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় ও খাদ্য দিয়ে সহায়তা করেছিল। যুদ্ধের পুরো নয় মাস ধরে ভারত মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র সরবরাহ করে। ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতের বিমানঘাঁটিতে হামলা চালালে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে জড়ায় এবং ‘মিত্রবাহিনী’র অংশ হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে। যৌথ বাহিনীর তীব্র আক্রমণের মুখে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য আত্মসমর্পণ করে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্ববৃহৎ আত্মসমর্পণ। এই যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্তত দেড় হাজার সদস্য প্রাণ হারায়।
‘মুক্তিযুদ্ধই’ আমাদের আত্মপরিচয়ের শেষ কথা : জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি, বিজেপি ও গণঅধিকার পরিষদের সংসদ সদস্যরা। যা দেশের আপামর জণসাধারণকে আশান্বিত করেছে। এছাড়া জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যরাও তাদের বক্তব্যে বিভিন্নভাবে ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধকে সামনে নিয়ে এসেছে।
২৮ এপ্রিল ২০২৬ জাতীয় সংসদে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান জামায়াতে ইসলামী ও মুক্তিযুদ্ধ ইস্যুতে কঠোর বক্তব্য দিয়ে তুমুল ঝড় তোলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধকে জুলাই গণআন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করার বিরোধিতা করে বলেন, এমন তুলনা করা মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করার শামিল। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ১৯৭১ সালে আমাদের নেতা জিয়াউর রহমান প্রথম নিজের নামে, পরে বঙ্গবন্ধুর নামে স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। ফজলুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরকে পালন করা হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। সেই মুনীর চৌধুরী, আব্দুল আলীম চৌধুরী, শহীদুল্লাহ কায়সার থেকে ধরে শত শত বুদ্ধিজীবীকে যারা হত্যা করেছিল তাদেরকে বলা হয় আল-বদর। আমি খুব দুর্ভাগা, এই হাউসে প্রস্তাব হয়েছে, তাদের ব্যাপারেও শোক প্রস্তাব হয়েছে। আমি একা হলেও এটা প্রতিবাদ করতাম। ইতিহাস ভুল বার্তা যাবে যদি আমরা যুদ্ধাপরাধীর ব্যাপারে শোক প্রস্তাব নেই।’ পরের দিন ২৯ এপ্রিল জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ভালোভাবে আচরণ করে যাচ্ছি, ভদ্রতার সঙ্গে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে।
৩০ এপ্রিল সংসদে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিন ফারুক সংসদে দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ৭১ আমার মাথার মণি, ৭১ আমাদের স্বাধীনতা। এটাকে মাথায় রাখব। এছাড়া জাতীয় সংসদে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সদস্যদের নামের আগে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দ ব্যবহার করে সম্বোধনের প্রস্তাব দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, যেহেতু আমরা সবাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করি, তাই সংসদে যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা আছেন তাদের নাম উচ্চারণের সময় আগে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দটি ব্যবহার করা হলে সম্মান জানানো হবে। এতে নতুন প্রজন্মও বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারবে।
এদিকে স্বাধীনতার অন্যতম নায়ক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি জাতীয় সংসদে শ্রদ্ধা জানান গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াতে ইসলামীর নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ারেছ। ২৩ এপ্রিল জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানান। আব্দুল ওয়ারেছ বলেন, আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি স্বাধীনতার একমাত্র ঘোষক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান, স্বাধীনতার অন্যতম নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী সংসদে বলেন, অতীতের ইতিহাস দিয়ে বর্তমান জামায়াতে ইসলামীকে বিশ্লেষণ করবেন না। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের মাধ্যমে জনগণ দলটিকে গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছেন। শাহজাহান চৌধুরী বলেন, জাতি ভোটের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে আমরা দেশকে ভালোবাসি এবং দেশের মানুষের পাশে আছি। স্বাধীনতার ইতিহাস সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছে। তাই অতীতের বিষয় তুলে ধরে বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীকে বিচার করা উচিত নয়।
স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো গেলো স্বাধীনতা দিবসে সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রায়ই সভা সমাবেশের বক্তব্যে নিজেকে শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন গর্বের সঙ্গে।
এই কথা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ২৩ বছরের ইতিহাস বর্তমান তরুণ প্রজন্মের একটা অংশের কাছে অজানা। যার কারণে এই তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পরিপূর্ণভাবে ধারণ করতে পারছে না। কিন্তু এর জন্য যতটা না তরুণ প্রজন্ম দায়ী, তার চেয়ে বেশি দায়ী বিগত ৫০ বছরে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে তারা। রাষ্ট্র মুক্তিযুদ্বের প্রকৃত ইতিহাস, ২৩ বছরের বিরামহীন সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধের নায়কদের ত্যাগ, বিশেষ করে আমাদের ওপর পাক বাহিনীর বরর্বতা তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে, বরং মাঝে মধ্যে দলীয় স্বার্থে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করে প্রচার করা হয়েছে। সেই সুযোগে একটি কালো শক্তি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার অপচেষ্ঠা করেছিল। তবে আশার কথা হচ্ছে, সেই অপশক্তি সফল হতে পারেনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা নিয়ে আলোচনা করেছে সংসদ সদস্যরা। পাশাপাশি বিভিন্ন সভা সমাবেশ, আলোচনা অনুষ্ঠান, টেলিভিশন টক শোসহ সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের জাতীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক সর্বোপরি আপামর জনসাধারণ দৃঢ় কণ্ঠে উচ্চারণ করছে মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী। ফলে আবারও প্রমাণিত হচ্ছে ‘মুক্তিযুদ্ধই’ আমাদের একমাত্র অহংকার, গৌরব ও আত্মপরিচয়ের শেষ কথা।
লেখক : প্রধান প্রতিবেদক, দৈনিক ভোরের ডাক